logo

‘৫০৬ কোটি টাকা’ বিল: কর্মীদের কাছে কারণ জানতে চেয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ

‘৫০৬ কোটি টাকা’ বিল: কর্মীদের কাছে কারণ জানতে চেয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ
বিদ্যুৎ বিলের কাগজ হাতে গ্রাহক আলেয়া খাতুন। ছবি: এশিয়া পোস্ট

মাগুরায় ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে গ্রাহকের নামে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকার বিল করার কারণ জানতে চেয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। চারজন কর্মীর কাছে নোটিশ পাঠিয়ে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. মহিতুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

যাদেরকে কারণ দর্শানোর দেওয়া হয়েছে, তারা হলেন আড়পাড়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. রেজাউল করিম, বিলিং সুপারভাইজার সীমা রানী, বিলিং সহকারী সুমা রানী ঘোষ এবং মিটার রিডার কাম ম্যাসেঞ্জার তোরাব আলী। তাদেরকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।

ওই গ্রাহক আলেয়া খাতুন মাগুরা শালিখা উপজেলার কেচুয়াডুবি গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শহীদুল ইসলামের স্ত্রী। তার নামে সেপ্টেম্বর ২০২৬ মাসের ওই বিল ইস্যু করে মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়পাড়া জোনাল অফিস।

বিলের তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ সেপ্টেম্বর মিটারের বর্তমান রিডিং ছিল ৩৯৫ এবং এর আগের ৮ আগস্টের রিডিং ছিল ১৬০। অর্থাৎ এক মাসে ওই গ্রাহকের বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে মাত্র ২৩৫ ইউনিট।

২৩৫ ইউনিট ব্যবহারের বিপরীতে বিলের স্বাভাবিক অংশের সঙ্গে ডিমান্ড চার্জ হিসেবে দেখানো হয় ৪৮২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২২ টাকা। এর সঙ্গে ২৪ কোটি ১৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৭১ টাকা ভ্যাট এবং ১০ টাকা মিটার ভাড়া যোগ করা হয়। সব মিলিয়ে বিলের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা।

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিল প্রস্তুতের প্রক্রিয়ায় এমন বড় ধরনের ভুল কীভাবে হলো বিদ্যুৎ অফিসের, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. মহিতুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, টাইপিং মিসটেকের কারণে অস্বাভাবিক এই বিল তৈরি হয়েছিল। বিষয়টি জানার পর বিলটি সংশোধন করে প্রকৃত বিল এক হাজার ৯৬৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। চারজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।