খুমেক হাসপাতালে চিকিৎসক লাঞ্ছিত, তদন্ত কমিটি গঠন

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসক ডা. জিল্লুর রহমান তরুণকে লাঞ্ছিত ও হামলার অভিযোগের ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর। একই সঙ্গে তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মিছবাহ উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করে সুনির্দিষ্ট সুপারিশসহ প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের আদেশে বলা হয়েছে, খুলনা মেডিকেল কলেজের ইএনটি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আ ম জাফর সালেহ এবং বহিরাগত ডা. মো. শফিউল আলম ডেভিডের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি ডা. জিল্লুর রহমানকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন—এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে খুলনা মেডিকেল কলেজের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. এস এম মাসুম ইকবালকে। কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আক্তারুজ্জামান। সদস্যসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রশাসন) মো. হুমায়ুন কবীরকে।
আদেশে তদন্ত কমিটিকে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন, সংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনা এবং সুনির্দিষ্ট সুপারিশসহ প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ডা. জিল্লুর রহমানের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, সরকারি আদেশে গত ১ জুলাই খুলনা মেডিকেল কলেজের ডিপ্লোমা ইন অর্থোপেডিকস কোর্সে ভর্তি হন ডা. জিল্লুর রহমান তরুণ। কোর্সের অংশ হিসেবে তিনি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন।
গত ২৬ জুলাই হাসপাতালের তৃতীয়তলায় অর্থোপেডিকস বিভাগে দায়িত্ব পালনকালে তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে। ডা. তরুণের অভিযোগ, ডা. আবু জাফর সালেহ পলাশ, ডা. তাজ এবং ডা. মো. শফিউল আলম ডেভিডের নেতৃত্বে কয়েকজন বহিরাগত তাঁর ওপর হামলা ও লাঞ্ছিত করেন।
ঘটনার পর থেকে ডা. জিল্লুর রহমান তরুণ হাসপাতালে প্রবেশ করতে পারছেন না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এ অবস্থায় তার প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা কার্যক্রম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ বিষয়টি তদন্তের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন।
এদিকে, সরকারি আদেশে তদন্ত কমিটি গঠনের পাশাপাশি তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত শুরু করেছে।
