মেহেরপুর সীমান্তে আবারও পুশইনের চেষ্টা

মেহেরপুরের সদর উপজেলার বুড়িপোতা সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ আবারও চারজনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কঠোর অবস্থানের কারণে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
শুক্রবার (১৯ জুন) ভোরে মেহেরপুর সদর উপজেলার বুড়িপোতা বিওপির খালপাড়া সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভারতীয় কাঁটাতারের এপাশে শূন্যরেখা ও ভারতীয় জমির মধ্যবর্তী স্থানে একটি বাঁশঝাড়ের নিচে এক নারী ও তিন পুরুষকে বসে থাকতে দেখেন সীমান্তের বাংলাদেশ অংশের কৃষকরা। পরে বিষয়টি তারা বিজিবিকে জানান।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ওই সময় এলাকায় অস্বাভাবিক চলাচল লক্ষ্য করা যায়। এরই মধ্যে প্রবল বৃষ্টি শুরু হলে কৃষকরা স্থান ত্যাগ করেন। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুশইনের চেষ্টা করা ওই ব্যক্তিদের আর খুঁজে পায়নি বিজিবি ও স্থানীয় জনতা। তাদের বিএসএফ ফেরত নিয়ে গেছে, এমন কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যও পাওয়া যায়নি।

তবে স্থানীয়দের ধারণা, ভারতীয় কাঁটাতারের এপাশে ভারতীয় জমি, শূন্যরেখা এবং বাংলাদেশের জমিতে পাটের আবাদ থাকায় ওই এলাকায় কেউ লুকিয়ে থাকলে তাদের খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সীমান্তের বিপরীত পাশে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার তেহট্ট থানার নাটনা বিএসএফ ক্যাম্প অবস্থিত।
এ বিষয়ে বিজিবি-৬ চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান বলেন, শুক্রবার ভোরে বৃষ্টির আগে বিএসএফ চারজনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছিল। তবে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি।
তিনি বলেন, সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। যে কোনো ধরনের পুশইন প্রতিরোধে বিজিবি বদ্ধপরিকর।
ঘটনাটি ঘিরে সীমান্ত এলাকায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়েছে।
এর আগে, গত ৬ জুন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া সীমান্ত এলাকা দিয়ে সাতজনকে বিএসএফ শূন্যরেখায় ঠেলে পাঠায়। ওই সাতজন শূন্যরেখায় অবস্থান করার সময় পার্শ্ববর্তী এলাকা দিয়ে আরও ছয়জনকে ঠেলে দেওয়া হয়। পুশইন হওয়া ১৩ জনের মধ্যে মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারী বর্তমানে গাংনী উপজেলার কাজিপুর গ্রামে অবস্থান করছেন।
