বাবা ছিলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী, ৩ দশক পর একই দায়িত্বে মেয়ে পুতুল

বিএনপির তৎকালীন প্রভাবশালী নেতা ফজলুর রহমান পটল ১৯৯৩ সালের ১৪ আগস্ট সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তিন দশকেরও বেশি সময় পর একই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলেন তার মেয়ে ফারজানা শারমীন পুতুল।
প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে প্রথম কর্মদিবস শুরু করেন ফারজানা শারমীন। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি তাকে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও অর্পণ করা হয়েছে।
প্রথম কর্মদিবসটি তার জন্য ছিল আবেগঘন ও স্মৃতিময়। সচিবালয়ের সেই দপ্তরে বসেই কাজ শুরু করেন, যেখানে তিন দশক আগে তার বাবা দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আজ মন্ত্রণালয়ে প্রথম দিন। দীর্ঘ ৩৩ বছর আগে যে অফিসে বসে আব্বু দেশের জন্য কাজ করেছিলেন, আজ আমি সেই একই অফিসে বসে দেশের জন্য কাজ করতে যাচ্ছি। দিন-রাতে এমন কোনো মুহূর্ত নেই যখন আমার বাবা আমার সঙ্গে থাকেন না। আজ অফিসে বসে পাশের বোর্ডের ৬ নম্বর তালিকায় আব্বুর নামের দিকে যতবার চোখ পড়েছে মনে হয়েছে আব্বু আমাকে বলছেন, was waiting here for you!’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ফারজানা শারমীন পুতুল। নির্বাচনি প্রচারে বাবার আদর্শ অনুসরণ এবং তার অসমাপ্ত স্বপ্ন বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছিলেন তিনি।
স্থানীয়দের মতে, ফজলুর রহমান পটলের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের সুনাম ও জনপ্রিয়তা তার মেয়ের বিজয়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তবে বিজয়ের এই পথটি সহজ ছিল না। দলীয় বিভাজন, স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ সামলে প্রায় ১২ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে আনেন তিনি।
৪১ বছর বয়সী ফারজানা শারমীন পেশায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে উঠলেও তিনি দীর্ঘদিন প্রত্যক্ষ রাজনীতির বাইরে ছিলেন। ২০১৬ সালে পিতার মৃত্যুর পর তিনি সরাসরি রাজনীতিতে সক্রিয় হন। বর্তমানে তিনি নাটোর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।