ময়মনসিংহে কলেজছাত্র নিহতের ঘটনায় কিশোর গ্যাংয়ের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার

ময়মনসিংহে ছিনতাইকারীদের ধাওয়ায় আনন্দ মোহন কলেজের শিক্ষার্থী নূরুল্লাহ শাওন নিহতের ঘটনায় কিশোর গ্যাংয়ের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। শনিবার বিকেল থেকে ময়মনসিংহ সদর, ঈশ্বরগঞ্জের ভারতী ও নেত্রকোনা সদর উপজেলার সাতপাই এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার পাঁচ কিশোরই ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চর জেলখানা (বিনপাড়া) এলাকার বাসিন্দা।
এর আগে শাওন হত্যার আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে শনিবার বিকেলে পুলিশ সুপারের কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন আনন্দ মোহন কলেজের শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা আসামিদের রাতের মধ্যেই গ্রেপ্তারের দাবি জানান। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দিলে আন্দোলন সাময়িক স্থগিত করেন বিক্ষোভকারীরা।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ছিনতাইকারী কিশোর দলটি নিজেদের এলাকায় সন্ধ্যার দিকে যারা ঘুরতে যায়, তাদের ‘ঠেক’ দিত। তারা সবাই অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালিয়ে তাদের পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এর আগে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের নির্দেশে কিশোর সংশধোনাগারে পাঠানো হয়। মামলার অন্য আসামিসহ এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নূরুল্লাহ শাওন ও তার বন্ধু মঞ্জুরুল আহসান রিয়াদ জয়নুল আবেদিন উদ্যান এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের বিপরীত পাশে বেড়াতে যান। সন্ধ্যা ৬টার দিকে দুই বন্ধুকে অন্তত সাতজনের একটি ছিনতাইকারী দল ঘিরে ধরে তাদের কাছে যা আছে বের করে দিতে বলে। নৌকা ভাড়া ছাড়া আর কোনো টাকা নেই জানালে দুই বন্ধুকে মারধর করা হয়।
একপর্যায়ে দুই বন্ধু দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। চারজন পিছু নেয় শাওনের এবং তিনজন পিছু নেয় মঞ্জুরুলের। মঞ্জুরুল ব্রহ্মপুত্র নদ সাঁতরে পার হতে পারলেও নূরুল্লাহ শাওন কোন দিকে গেছেন তার সন্ধান মেলেনি।
পরে মঞ্জুরুল তীরে উঠে এলাকাবাসী ও বন্ধুদের খবর দিলে ছিনতাইকারী দলটির ১৫ বছর বয়সি এক সদস্যকে ধরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার বিকেলে শাওনের মা শাহিদা বেগম বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি অভিযোগ দেন। অভিযোগে সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে পুলিশ। আর শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর ব্যাটবল চত্বর-সংলগ্ন ব্রক্ষপুত্র নদ থেকে শাওনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত নূরুল্লাহ শাওন কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের চরজাকালিয়া গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে।