logo

হারমোনিয়ামে লুকিয়ে অস্ত্র পাচার

হারমোনিয়ামে লুকিয়ে অস্ত্র পাচার
হারমোনিয়ামের ভেতরে অস্ত্র ও অর্থ উদ্ধারের ঘটনায় সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছেন এসআরবি-১৪-এর অধিনায়ক মাসুদ রানা। ছবি : এশিয়া পোস্ট

পুরোনো ও ভাঙা একটি হারমোনিয়াম তা নিয়েই কুষ্টিয়া থেকে যাত্রীবাহী বাসে চড়েছিলেন মো. বারেক ব্যাপারী। তবে সেই বাদ্যযন্ত্রের ভেতরে যে বিদেশি পিস্তল ও গুলি লুকানো রয়েছে, তা যাত্রীদের অজানা ছিল। শেষ পর্যন্ত টাঙ্গাইলের যমুনা সেতু পূর্ব এলাকার একটি তল্লাশিচৌকিতে ধরা পড়ে সেই গোপন অস্ত্রের চালান। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মুন্সীগঞ্জে অভিযান চালিয়ে দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। তাদের বাসা থেকে অস্ত্রের পাশাপাশি উদ্ধার করা হয়েছে ৪১ লাখ টাকার বেশি নগদ অর্থ।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে ময়মনসিংহে এসআরবি-১৪ সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন বাহিনীটির অধিনায়ক মাসুদ রানা।

আটক মো. বারেক ব্যাপারীর বয়স ৪৯ বছর। তার বাড়ি পাবনায় হলেও তিনি ঈশ্বরদীতে বসবাস করেন।

অধিনায়ক মাসুদ রানা জানান, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দিবাগত রাত দুইটার দিকে টাঙ্গাইলের যমুনা সেতু পূর্ব গোলচত্বর এলাকায় কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা রিয়াজ পরিবহনের একটি বাসে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় যাত্রী বারেক ব্যাপারীর কথাবার্তা ও আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তার সঙ্গে থাকা হারমোনিয়ামটি পরীক্ষা করেন সদস্যরা। এর ভেতর থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, সাতটি গুলি ও দুটি ম্যাগাজিন পাওয়া যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বারেক জানান, পিস্তল দুটি মুন্সীগঞ্জের সুজন ব্যাপারী নামের এক ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল এবং সুজন কুষ্টিয়া থেকে অস্ত্র দুটি কিনেছিলেন।

তিনি আরও জানান, এসআরবি-১৪-এর টাঙ্গাইল ক্যাম্পের তথ্যের ভিত্তিতে এসআরবি-১১-এর নারায়ণগঞ্জ দল বুধবার সকাল সাতটার দিকে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার শিরোলই এলাকায় সুজন ব্যাপারীর বাসায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে সুজন ব্যাপারী (৩২) ও তার বড় ভাই মনির হোসেনকে (৪৫) গ্রেপ্তার করা হয়। ওই বাসা থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, চারটি গুলি, দুটি ম্যাগাজিন, তিনটি মুঠোফোন এবং নগদ ৪১ লাখ ১৯ হাজার ৫০০ টাকা জব্দ করা হয়।

সব মিলিয়ে এ অভিযানে মোট তিনটি বিদেশি পিস্তল, ১১টি গুলি, চারটি ম্যাগাজিন, তিনটি মুঠোফোন এবং নগদ ৪১ লাখ ১৯ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

এসআরবি-১৪-এর অধিনায়ক মাসুদ রানা জানান, এ ঘটনায় টাঙ্গাইলের যমুনা সেতু পূর্ব থানা ও মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। অস্ত্রগুলোর উৎস এবং আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।