৪৩ বছরের আইনি লড়াই, অবশেষে জমি ফিরে পেলেন তিনি

দীর্ঘ ৪৩ বছরের আইনি লড়াই শেষে সাড়ে ১৪ শতাংশ জমি অন্যের দখল থেকে ফিরে পেয়েছেন বরিশালের এক ব্যক্তি। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দখলদারকে উচ্ছেদ করে প্রকৃত মালিকের কাছে জমিটি বুঝিয়ে দেয় প্রশাসন।
জমির মালিক আব্দুল হাই বাপ্পি এশিয়া পোস্টকে বলেন, আমাকে জমি ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করার মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে এই ধরনের ভূমি জালিয়াতি চক্রের বিচার দাবি করছি।
আদালত সূত্রে জানা যায়, বরিশাল বগুরা আলেকান্দা মৌজার সাড়ে ১৪ শতাংশ জমি ৪৩ বছর দখল করে রাখা হয়। একাধিক মামলায় জমির প্রকৃত মালিক আব্দুল হাই বাপ্পি রায় পেলেও প্রভাব খাটিয়ে দখলদাররা জমিটি ছাড়েননি। জমি ফিরে পেতে নিম্ন আদালত থেকে উচ্চ আদালত পর্যন্ত দ্বারস্থ হন আব্দুল হাই। গত ৩০ আগষ্ট ভূমিটি বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। দখল না ছাড়ায় তা সম্ভব হয়নি।
জমিটি দখল করে রাখা আ. মালেক বলেন, আমরা উচ্ছেদের কোনো নোটিশ পাইনি। আমাদের কোনো ধরনের নোটিশ দেওয়া হয়নি।
বরিশাল নগরীর মল্লিক রোডে বৃহস্পতিবার জেলার অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নির্দেশে জালিয়াতি চক্রকে উচ্ছেদ করেন বরিশাল সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজহারুল ইসলাম।
আব্দুল হাই বলেন, জমি ফিরে পেতে ৪৩ বছর ধরে জজকোর্ট, হাইকোর্ট, সুপ্রিমকোর্ট, আপিল বিভাগ পর্যন্ত গিয়েছি। রিভিউ খারিজ হওয়ার পরে জেলা প্রশাসনের এডিএম কোর্টে উচ্ছেদের মামলা করেছি। এত বছর-লড়াই সংগ্রাম করার পর আমার জমি আমি ফিরে পেয়েছি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জাল-জালিয়াতি করে জমি দখল কিংবা প্রভাব খাটিয়ে ভোগদখল করা জমি নিয়ে অনেক মামলা-বিরোধ রয়েছে। দীর্ঘ সময় আদালতের বারান্দায় পার করেও জমি সংক্রান্ত মামলার সুরাহা হয় না। বরিশালের এই ঘটনা নতুন একটি উদহারন সৃষ্টি করেছে।
উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজহারুল ইসলাম বলেন, অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নির্দেশে সাড়ে ১৪ শতাংশ জমি মূল মালিকের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। গত ৩০ আগষ্ট এই ভূমি বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। আমরা সেই মোতাবেক কার্যক্রম পরিচালনা করি। কিন্তু দীর্ঘদিন যারা ভোগদখল করে আসছিল তাদের অভিযোগ ছিল তারা কোন নোটিশ পায়নি। তাই তাদের একমাস সময় দেওয়া হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, আমার চাকরির অভিজ্ঞতায় শুনিনি কেউ নোটিশ পেয়েছেন। তারা সব সময় একটা কমন ডায়ালগ দেন আমরা কোনো নোটিশ পাইনি। এখানে সেটাই হয়েছে। তারপরও আমি নিজে একমাস সময় দেওয়ার পরও বলছে তারা কোনো নোটিশ পায়নি।
