নিখোঁজের ৩ দিন পর ধানক্ষেতে মিলল শিশুর মরদেহ

বগুড়ার সোনাতলায় নিখোঁজের তিন দিন পর ইউসুফ আলী (৫) নামে এক শিশুর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার বড় বালুয়া এলাকায় বালুয়াহাট ডিগ্রি কলেজের পেছনের একটি ধানক্ষেত থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। শিশুটির শরীর ক্ষতবিক্ষত ছিল। প্রাথমিকভাবে ভারী কোনো বস্তু দিয়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা ছয়টার দিকে সোনাতলা উপজেলার বড় বালুয়া বাজার এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় ইউসুফ। স্বজনেরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সোনাতলা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন শিশুটির সৎবাবা উজ্জ্বল ইসলাম। এরপর বুধবার দুপুরে স্থানীয় লোকজন ধানক্ষেতে শিশুটির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত ইউসুফের বাবা পলাশ ও মা রিনির দেড় বছর আগে বিবাহবিচ্ছেদ হয়। পরে রিনি শিবগঞ্জ উপজেলার ময়দানহাট্টা ইউনিয়নের মাহাবালা গ্রামের উজ্জ্বল ইসলামকে বিয়ে করেন। পেশায় বাসচালক উজ্জ্বলের সঙ্গে বিয়ের পর রিনি সোনাতলার বালুয়া বাজার এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। সেখানেই মায়ের সঙ্গে থাকত ইউসুফ।
সোনাতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন জানান, শিশুটির মরদেহ অর্ধগলিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে এবং তার শরীরের বিভিন্ন অংশে ক্ষতচিহ্ন ছিল। শিশুটির হাত ও পায়ের গোড়ালি এবং মাথার কিছু অংশ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পাওয়ায় সেগুলো উদ্ধারে ধানক্ষেত ও পাশের পুকুরপাড়ে তল্লাশি চালানো হয়েছে।
ওসি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শিশুটিকে ভারী কোনো বস্তু দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের কারণ ও এতে কারা জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মরদেহ উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলছে এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে।
