logo

এক মাসের মধ্যে মেয়ে হত্যার বিচার না পেলে আত্মহত্যা করব

এক মাসের মধ্যে মেয়ে হত্যার বিচার না পেলে আত্মহত্যা করব

কুমিল্লার আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যার ১০ বছর পার হয়ে গেছে। তবে এখনও এই হত্যা মামলার কোনো গতি হয়নি। এমন অবস্থায় দ্রুত মেয়ে হত্যার বিচার না পেলে আত্মহত্যা করার কথা বলেছেন তনুর বাবা ইয়ার হোসেন। 

সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আলোচিত এই হত্যা মামলার অগ্রগতি নিয়ে লিখিত প্রতিবেদন জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা। এদিন আদালতে আসেন তনুর বাবাও। 

তনুর বাবা ইয়ার হোসেন ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে এশিয়া পোস্টকে বলেন, ১০ বছর ধরে বিচার চাইতে চাইতে ক্লান্ত হয়ে গেছি। যদি এক মাসের মধ্যে আমার মেয়ের হত্যার বিচার না পাই, তাহলে আমি আত্মহত্যা করব। এই জীবন রেখে আর কী লাভ।

তিনি আরও বলেন, দেশের অন্যান্য হত্যার বিচার হলেও তার মেয়ের হত্যাকাণ্ডের বিচার এখনও হয়নি। তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে বিচার চাইবেন বলেও জানান।

এদিকে তনু হত্যার ১০ বছর পর মামলাটির সন্দেহভাজন তিনজনের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার সকালে কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. মুমিনুল হকের আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম হাজির হলে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার অগ্রগতি জানতে আদালতের চিঠির পর তদন্ত কর্মকর্তা লিখিত প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, তনুর ব্যবহৃত কিছু কাপড় থেকে আগে তিনজন ব্যক্তির ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি করা হলেও তা কখনো মিলিয়ে দেখা হয়নি। এ অবস্থায় আদালত সন্দেহভাজন ওই তিনজনের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দেন। জানা গেছে, তারা ইতোমধ্যে সেনাবাহিনী থেকে অবসরে গেছেন।

তদন্ত কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী তারিখে তদন্তের অগ্রগতি জানানো হবে।

২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু। পরে সেনানিবাসের একটি জঙ্গলে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ সময় থানা-পুলিশ, ডিবি ও সিআইডি তদন্ত করেও তনৃর মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। ২০২০ সালে মামলাটি পিবিআইতে হস্তান্তর করা হয়।