কলেজ মাঠে বছরজুড়ে জলাবদ্ধতা, খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত শিক্ষার্থীরা

ফেনীর অন্যতম প্রাচীন বিদ্যাপীঠ মহিপাল সরকারি কলেজের খেলার মাঠে স্থায়ী জলাবদ্ধতায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। সামান্য বৃষ্টিতেই প্রায় দুই একরের মাঠটি পানিতে তলিয়ে যায়। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বছরজুড়েই জমে থাকে পানি, যা এখন স্থায়ী রূপ নিয়েছে। এতে বন্ধ হয়ে গেছে কলেজের খেলাধুলা ও সহশিক্ষা কার্যক্রম। পাশাপাশি মশা, পোকামাকড় ও সাপের উপদ্রব বাড়ায় নতুন করে স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানটি ‘সরকারি কমার্শিয়াল কলেজ’ থেকে ২০১৬ সালে সাধারণ সরকারি কলেজে রূপান্তরিত হয়। বর্তমানে এখানে তিন বিভাগে প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। তবে ক্যাম্পাসের একমাত্র খেলার মাঠটি নিচু হওয়া এবং পানি নিষ্কাশনের সুনির্দিষ্ট ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষার্থীরা শরীর চর্চা বা খেলাধুলার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
শুধু খেলাধুলাই নয়, বর্ষায় পানির উচ্চতা বাড়লে নিচতলার ক্লাসরুম ও প্রশাসনিক ভবনে পানি ঢুকে পড়ে। দীর্ঘদিন জমে থাকা পানির কারণে দেয়াল ও পলেস্তারা খসে পড়ছে, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন চলাচলেও পড়তে হচ্ছে চরম বিড়ম্বনায়।
দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইমাম হোসেন মারুফ বলে, সারা বছর পানি জমে থাকায় আগাছা জন্মে মাঠটি জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। এখন খেলাধুলা তো দূরের কথা, মশা ও সাপের আতঙ্কে তটস্থ থাকতে হয়। আমরা মাঠটি দ্রুত ভরাট ও সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি।
কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি গাজী সালাহ উদ্দিন আমান বলেন, একটু বৃষ্টি হলেই হাঁটু পানি পেরিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে যেতে হয়। মূলত মাঠ নিচু হওয়া এবং চারপাশে ড্রেন না থাকার কারণেই এই দুর্ভোগ। আমরা দ্রুত সংস্কার দাবি করছি।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা নিয়ে মহিপাল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ উল্লাহ ভূঁইয়া বলেন, সঠিক নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় সারা বছরই মাঠে পানি জমে থাকে। বেশি বৃষ্টি হলে নিচতলায় পানি উঠে গেলে পানি মাড়িয়ে ভবনে ঢুকতে হয়। ড্রেনেজ ব্যবস্থার স্থায়ী সমাধানের জন্য আমরা ফেনী পৌরসভায় লিখিত আবেদন করেছি, কিন্তু এখনও সাড়া পাইনি। পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
দ্রুত মাটি ভরাট করে মাঠ সমতল করা, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং কলেজের অবকাঠামো সুরক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।
.png)


