বানোয়াট ইস্যুতে কিছু দল অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে: তারেক রহমান

সাম্প্রতিক সময়ে কিছু রাজনৈতিক দল দেশে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘আমরা যখন দেশের আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করছি, তখন তারা বানোয়াট ইস্যু তৈরি করে দেশে অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে।’
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ফেনীর পরশুরাম ঘাটঘর এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন মুহুরী-কুহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সংরক্ষণ ও সেচ প্রকল্পের উদ্বোধন শেষে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭১ সালে তারা কী ভূমিকায় ছিল, তা আমাদের মুরুব্বিদের অবশ্যই মনে আছে। তারা একাত্তর সালে যেভাবে নির্যাতন করেছিল, ঠিক সেভাবে আবার শুরু করেছে। তারা শুধু নির্যাতন করে ক্ষান্ত হয়নি, একটি মানুষের জীবনাবসান করে দিয়েছে। তারা এখন এ করেন, সে করেন বলে আমাদের নানাভাবে নসিহত করা শুরু করেছে। তাদের বলব, দয়া করে নিজের ঘরের দিকে নজর দিন। নিজের দলের লোকদের নিয়ন্ত্রণ করুন।’
তিনি আরও বলেন, ‘১৯৮৬ সালে তারা দেশের মানুষের অধিকারের বিরুদ্ধে গিয়েছিল, এখনও যাচ্ছে। ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তারা মানুষকে বিভ্রান্ত করে কিছু আসন পেয়েছিল। সেগুলো পেয়ে তারা এখন ধরাকে সরা জ্ঞান করছে। এসব বিভ্রান্তকারীদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে। এখন সময় এসেছে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার—কার কথা বিশ্বাস করবেন, কার কথা বিশ্বাস করবেন না।’
তারেক রহমান বলেন, ‘যে কোনো মূল্যে দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে অব্যাহত রাখতে হবে। দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য যারা কাজ করছে, তাদের কাজকে বাধাগ্রস্ত করলে দেশের মানুষ তাদের কঠোরভাবে প্রতিহত করবে।’
তিনি বলেন, বিএনপি সরকার জনগণের জন্য কাজ করে। তারা ক্ষমতায় এসে সারা দেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছে। এতে কৃষকরা উপকৃত হবেন। অতিরিক্ত ১ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য উৎপাদন হবে। খাদ্যশস্য জনগণের ক্রয়ক্ষমতার নাগালের মধ্যে থাকবে।
তারেক রহমান বলেন, প্রান্তিক কৃষকদের সহায়তা করতে তাদের হাতে কৃষক কার্ড তুলে দেওয়া হচ্ছে। মা-বোনদের স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হচ্ছে। প্রান্তিক কৃষকদের ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। এতে ১৩ লাখ কৃষক উপকৃত হবেন। বিগত স্বৈরাচার সরকারের আমলে বন্ধ হয়ে যাওয়া বহু কলকারখানা চালু করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের সব ৫০ শয্যার হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় রূপান্তর করা হচ্ছে, যা জিয়াউর রহমান ৩০ শয্যা এবং বেগম খালেদা জিয়া ৫০ শয্যায় রূপান্তর করেছিলেন। বিএনপি এসব জনকল্যাণমুখী কার্যক্রম শুরু করায় কিছু লোকের গাত্রদাহ শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বিগত স্বৈরাচার সরকার মানুষের টুঁটি চেপে ধরেছিল। তারা কাউকে কথা বলতে দেয়নি, কারও কথা শোনেনি। তাদের অত্যাচার-নির্যাতনের কারণে ’২৪-এর গণআন্দোলনে মানুষ তাদের বিদায় করে দিয়েছে। ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে মানুষ আমাদের দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করছি।’
পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানির সভাপতিত্বে এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু তালেবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সি রফিকুল আলম মজনু, ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন ভিপি, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সি আলাউদ্দিন আল আজাদ, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়া উদ্দিন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী, ফেনীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবুর করিম, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট তাবিথ আউয়াল, পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদারসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা এবং বিএনপি ও এর অঙ্গসহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতারা।