একসঙ্গে ঘুম, একসঙ্গে মৃত্যু—নিজেদের গাছেই নিভল তিন জীবন

জামালপুরের মেলান্দহে কালবৈশাখীর তাণ্ডবে নিজেদের লাগানো মেহগনি গাছ ভেঙে বসতঘরের ওপর পড়ে মা ও দুই মেয়ের মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) ভোররাতে উপজেলার নয়ানগর ইউনিয়নের দাগী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন দাগী এলাকার মৃত গনি মণ্ডলের স্ত্রী খুকি বেগম (৬৫) এবং তার দুই মেয়ে ফরিদা আক্তার (৪০) ও ফতে আক্তার (৩৭)। ফরিদা আক্তার মানসিক প্রতিবন্ধী ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাতে নিজ বসতঘরের একই বিছানায় ঘুমিয়ে ছিলেন তারা। রাত গভীর হলে হঠাৎ দমকা হাওয়া ও তীব্র কালবৈশাখী শুরু হয়। ঝড়ের একপর্যায়ে ঘরের পাশে থাকা একটি বড় মেহগনি গাছসহ মোট চারটি গাছ টিনের ঘরের ওপর ভেঙে পড়ে। এতে ঘরের ভেতরে থাকা তিনজনই গাছের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
এদিকে রাতের প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তাৎক্ষণিক উদ্ধারকাজ চালানো সম্ভব হয়নি। পরে সকালে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাছ সরিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন।
নিহত খুকি বেগমের ছেলে আকালো মণ্ডল জানান, তিনি বাড়িতে ছিলেন না। সকালে খবর পেয়ে এসে পরিবারের তিন সদস্যের নিথর দেহ দেখতে পান।
পাশের বাড়ির বাসিন্দা বিল্লাল বলেন, গরীব মানুষ ঘর-দরজা তুলছে, হয়তো দুইটা টাকার আশায় বাড়ির পাশে গাছগুলো লাগিয়েছিল। বাতাসে এখন ফালাইয়া দিছে, কিছু তো করার নেই।
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা রহিম উদ্দিন জানান, রাতে প্রচণ্ড ঝড় হয়েছিল। কখন তাদের ওপর গাছ পড়ে আমরা কেউ বলতে পারিনি। সকালে এসে দেখি গাছ পড়ে মা ও দুই মেয়ে মারা গেছেন।
জামালপুর মেলান্দহ থানার এসআই হুমায়ূন কবির বলেন, আমরা সুরতহাল করেছি। পরিবার এখনও সিদ্ধান্ত নেইনি। পরিবারের সিদ্ধান্ত জানালে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।
এ বিষয়ে মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিন্নাতুল আরা বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিহতদের পরিবারকে সহায়তার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে।