পাবনায় পিটিয়ে মারা হলো দুটি রাসেলস ভাইপার

পাবনার ঈশ্বরদীতে বসতবাড়ির রান্নাঘরের খড়ির ঘর থেকে দুটি রাসেলস ভাইপার উদ্ধার করে পিটিয়ে হত্যা করেছে স্থানীয়রা।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার বাঘইল এলাকায় আমিরুল ইসলাম বিশ্বাসের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে আমিরুল ইসলাম বিশ্বাসের স্ত্রী বাড়ির পাশ থেকে লেবু তুলে ঘরে ফিরছিলেন। এ সময় রান্নাঘরের খড়ির ঘরে দুটি সাপ দেখতে পান তিনি। বিষয়টি স্থানীয় লোকজনকে জানালে তারা এসে সাপ দুটিকে পিটিয়ে হত্যা করেন। সাপ দুটি প্রজননের উদ্দেশ্যে একত্র হয়েছিল বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা মাঈদুল ইসলাম বলেন, খড়ির ঘরের মতো বসতবাড়ির কাছে এমন বিষধর সাপ দেখে সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। সে কারণেই সাপ দুটিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঈশ্বরদীর চরাঞ্চলে রাসেলস ভাইপারের উপস্থিতি বাড়ছে। বর্ষা মৌসুম শেষে চরে চাষাবাদ শুরু হয়েছে। এ সময় সাপগুলো লোকালয়ে আশ্রয় নিতে পারে। তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
পাবনার প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণীবিষয়ক সংগঠন নেচার অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন কমিউনিটির (এনডব্লিউসিসি) সভাপতি এহসান বিশ্বাস লিটু বলেন, প্রতিটি প্রাণীরই বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। সাপ দুটিকে না মেরে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা জরুরি ছিল। বন বিভাগের কেউ এসে সাপ দুটি উদ্ধার করতে পারলে ভালো হতো।
তিনি আরও জানান, রাসেলস ভাইপার অত্যন্ত বিষধর সাপ। বাংলাদেশসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এ সাপের অস্তিত্ব রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় এই সাপের উপদ্রব বেড়েছে।
পাবনা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আবু তালেব প্রামাণিক বলেন, গত কয়েক বছর ধরে ঈশ্বরদীর চরাঞ্চলে ব্যাপকভাবে বিষধর রাসেলস ভাইপারের দেখা মিলছে। এর আগে এ সাপের আক্রমণের শিকার হয়েছেন বেশ কয়েকজন। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে শিগগিরই নানামুখী কার্যক্রম হাতে নেওয়া হবে। এতে মানুষ ও বন্যপ্রাণী উভয়ের সুরক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।


