শেরপুরে বিপৎসীমার ১৬০ সেন্টিমিটার ওপরে চেল্লাখালী নদীর পানি

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর গতকাল মঙ্গলবার রাত থেকে ভারী বর্ষণে শেরপুরের চেল্লাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ১৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া জেলার সব নদনদীর পানি বাড়ছে ।
বুধবার (১৩ মে) বিকেল পর্যন্ত জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার চেল্লাখালী নদীর পানি বাতকুচি পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া হু হু করে পানি বাড়ছে নালিতাবাড়ীর ভোগাই নদী, ঝিনাইগাতী উপজেলার মহারশি নদী, শ্রীবরদী উপজেলার সোমেশ্বরী নদী ও সদরের পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের পানি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, চেল্লাখালী নদীর পানি বাতকুচি পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৬০ সেন্টিমিটার ওপর ও মহারশি নদীর পানি বিপৎসীমার ৩০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর হু হু করে বাড়ছে সোমেশ্বরী ও ভোগাই নদীর পানি।
স্থানীয়রা জানান, গত রাত থেকে অবিরাম ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে নদী পানিতে ভরে গেছে। সকাল থেকে টানা বৃষ্টি থাকলেও দুপুরের পর থেমে থেমে বৃষ্টি থাকায় চেল্লাখালী বাদে বাকি নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যদি এই বৃষ্টি অব্যাহত থাকে, তাহলে ঢলের পানি ঢুকবে নিম্নাঞ্চলে। যদিও এখনও পানি ঢোকেনি। তবে নদীর তীরবর্তী কিছু কিছু বাড়িতে পানি ঢুকতে শুরু করেছে।
নালিতাবাড়ী উপজেলার রামচন্দ্রকুড়া এলাকার বাসিন্দা আতিক মিয়া বলেন, ‘হুট করেই পানি আইছে আমগর নদীতে। গতকালকেও পানি তেমন ছিল না, আজ সকালেই দেখি নদী ভরে গেছে। অনেক জায়গার নদী তীরবর্তী বাড়িতে পানি ঢুকছে।’
একই এলাকার বাসিন্দা ফুরকান মিয়া বলেন, এই পানি এখন আছে, আরেকটু পরই থাকে না। যদি বৃষ্টি না হয়, তাহলে পানি এমন থাকবে না। যদি বৃষ্টি হয় আর পাহাড়ি ঢল আসে, তাহলে অনেক ক্ষতি হবে।
ঝিনাইগাতী উপজেলার ব্রিজপাড়ের বাসিন্দা নূর ইসলাম বলেন, সকালের দিকে পানি অনেক বেশি ছিল, এখন অনেকটাই কমেছে। যদি আবার বৃষ্টি আসে, তাহলে আবার পানি বাড়বে। নদীর পাশের অনেক বাড়িতেই পানি ঢুকছে।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুদীপ্ত চৌধুরী বলেন, চেল্লাখালী নদীর পানি বাতকুচি পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বাকি নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যদিও এই পানি খুব দ্রুতই নেমে যাচ্ছে, তারপরও আমরা প্রস্তুত রয়েছি।