তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া আসনে বিএনপির প্রার্থী কে

বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়া-৬ (সদর) আসনটি ছেড়ে দিয়েছেন। তার এই সিদ্ধান্তের পর বিএনপির দুর্গখ্যাত আসনটিতে উপনির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। তবে বগুড়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে সবার আলোচনা, কে হচ্ছেন গুরুত্বপূর্ণ এ আসনে বিএনপির প্রার্থী?
বগুড়া জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া এই আসনে উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে স্থানীয় পর্যায়ের কয়েকজন নেতার নাম ঘুরে-ফিরে সামনে আসছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় একজন নেতার নামও জোরালভাবে আলোচনায় উঠে এসেছে।
স্থানীয় নেতাদের মধ্যে জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশার নাম জোরালভাবে শোনা যাচ্ছে। বর্তমান জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে মাঠপর্যায়ে তার শক্ত অবস্থান রয়েছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার এবং দলের দুঃসময়ে হাল ধরার কারণে নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ তাকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চায়। বগুড়া পৌরসভার মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন।
বগুড়া জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও তিনবাবের নির্বাচিত বগুড়া পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট এ কে এম মাহবুবুর রহমানও তালিকায় আছেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। জনপ্রতিনিধি হিসেবে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে তাকে এগিয়ে রেখেছে। রাজনীতিবিদ হিসেবেও অনেক ক্লিন ইমেজের ব্যক্তি মাহবুবুর রহমান জেলায় সর্বজন পছন্দনীয় একজন নেতা।
১৯৯১ থেকে ২০০১ পর্যন্ত তিনটি উপনির্বাচনে বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে নির্বাচিত হন হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু। বগুড়ার রাজনীতির ইতিহাসে প্রবীণ নেতা তিনি। হেলালুজ্জামান তালুকদার বিএনপির উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির তিনি সিনিয়র সহসভাপতি।
সংসদে তিনবার প্রতিনিধিত্ব করায় অভিজ্ঞ মানুষ হিসেবে সদর আসনে তাকে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
স্থানীয় নেতাদের পাশাপাশি বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নামও উঠে এসেছে মনোনয়নের তালিকায়। দেশজুড়ে পরিচিতি থাকায় রিজভী দলের পছন্দ হতে পারে।
বগুড়া জেলার একাধিক বিএনপি নেতারা জানান, বগুড়া-৬ (সদর) তাদের কাছে খুবই মর্যাদাপূর্ণ আসন। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই আসন ছেড়ে দিয়েছেন। তবে এমন একজনকে প্রার্থী করা হোক, যিনি নেতার অভাব পূরণ করতে পারবেন এবং এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন।
তবে প্রার্থী নির্বাচনে বিএনপি শেষ পর্যন্ত স্থানীয় জনপ্রিয়তাকে গুরুত্ব দেবে নাকি কেন্দ্রীয় কোনো নেতাকে বগুড়ায় পাঠাবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক আরিফ হাসান জানান, বগুড়া বিএনপির ঘাঁটি। আর সদর আসন রাজনৈতিকভাবে আলাদা গুরুত্ব বহন করে। বগুড়ায় অনেক দক্ষ সিনিয়র নেতা রয়েছেন, যারা সবসময় সদরের মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকেন। সদর আসনে পরবর্তী প্রার্থী কে হবে তা ঠিক করবেন আমাদের লিডার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি যাকে মনোনয়ন দেবেন তার জন্যই আমরা কাজ করব।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা বলেন, দল থেকে এখনো কোনো প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। অনেক আগেই আমাদের কাছে থেকে নাম নিয়েছে। দল যাকে যোগ্য মনে করবে, তাকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে। বগুড়ায় অনেক যোগ্য ব্যক্তি আছেন। কিন্তু লিডার যাকে ভালো মনে করবেন, তাকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেবেন। যিনি প্রার্থী হবেন, তার পক্ষেই আমরা সবাই কাজ করব।
বগুড়া-৬ (সদর) আসনের নির্বাচনি ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই আসনটি দীর্ঘকাল ধরেই বিএনপির সবচেয়ে শক্তিশালী দুর্গ হিসেবে পরিচিত।
সদ্য সমাপ্ত ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই আসনে বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেন। তিনি ১৫০টি কেন্দ্রের সবকটিতেই জয়ী হয়ে মোট দুই লাখ ১৬ হাজার ২৮৪ ভোট পান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবিদুর রহমান পান ৯৭ হাজার ৬২৬ ভোট।
২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জয়ী হলেও শপথ না নেওয়ায় আসনটি শূন্য হয়। ২০১৯ সালের ২৪ জুনের উপনির্বাচনে বিএনপির জিএম সিরাজ ৮৯ হাজার ৭৪২ ভোট পেয়ে বিপুল ব্যবধানে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের টি জামান নিকেতা পেয়েছিলেন ৩২ হাজার ২৯৭ ভোট।
বগুড়া-৬ আসনটি মূলত বিএনপির সংরক্ষিত আসন হিসেবেই গণ্য করা হতো। ২০০৮ সালের নির্বাচনে এক লাখ ৯৩ হাজার ৭৯২ ভোট পেয়ে খালেদা জিয়া জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তৎকালীন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজউদ্দিন পেয়েছিলেন ৭৪ হাজার ৬৩৪ টি ভোট। পরে আসনটি ছেড়ে দিলে উপনির্বাচনে বিএনপির জমির উদ্দিন সরকার সংসদ সদস্য হন।
এর আগে ২০০১ সালে দুই লাখ ২৭ হাজার ৩৫৫ ভোটে বিজয়ী হয়েছিলেন খালেদা জিয়া। ১৯৯৬ সালে পেয়েছিলেন এক লাখ ৩৬ হাজার ৬৬৯ ভোট।
এ ছাড়া বিএনপির সংসদ সদস্যরা সংসদ থেকে পদত্যাগ করায় ২০২৩ সালের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী রাগেবুল আহসান রিপু বিজয়ী হন।