দাওয়াত নিয়ে কথা-কাটাকাটি, মারধরে প্রাণ গেল কনের বাবার

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় মেয়ের শ্বশুরবাড়ির একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে যাওয়া নিয়ে বিরোধের জেরে মারধরের ঘটনায় মো. আবুল বাশার (৫০) নামের এক দিনমজুরের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ের শ্বশুর, শাশুড়ি ও ননদের জামাইকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের নাল্লা গ্রামের উত্তরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আবুল বাশার ওই গ্রামের মৃত চেরাগ আলীর ছেলে।
পুলিশ ও নিহতের স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, আবুল বাশারের অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে ময়না আক্তারের গর্ভধারণের পাঁচ মাস পূর্তি উপলক্ষে আগামী শুক্রবার মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেই অনুষ্ঠানের দাওয়াত দিতে মঙ্গলবার রাতে মেয়ের শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা আবুল বাশারের বাড়িতে যান।
তবে একই দিনে ভাতিজার বিয়ে থাকায় ওই অনুষ্ঠানে যেতে অপারগতা প্রকাশ করেন আবুল বাশার। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে মেয়ের শ্বশুর আব্দুল মতিন আবুল বাশারের গলা চেপে ধরেন এবং বুকে উপর্যুপরি ঘুষি মারেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় শাশুড়ি রোজিনা বেগম ও ননদের জামাই মো. হৃদয়ও তাকে মারধর করেন।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় আবুল বাশারকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত তিনজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
নিহতের স্ত্রী ঝরনা বেগমের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে তার মেয়েকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হচ্ছিল। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ চলছিল। সেই পুরোনো আক্রোশ ও বিরোধের জেরেই তার স্বামীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আটক তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধানে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।



