Advertisement

ডিবি পুলিশ পরিচয়ে অপহরণ করতেন তারা

এশিয়া পোস্ট নিউজ, বগুড়া
ডিবি পুলিশ পরিচয়ে অপহরণ করতেন তারা
ডিবি পুলিশ পরিচয়ে অপহরণ করতেন তারা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

বগুড়ায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে এক সিএনজি চালককে অপহরণ, মারধর ও পরিবারের কাছে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। অভিযান চালিয়ে ভুক্তভোগী চালককে উদ্ধার করার পাশাপাশি তাদের কাছ থেকে মুক্তিপণের দুই হাজার টাকা ও চারটি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়।

Advertisement

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে বগুড়া ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—বগুড়া সদর উপজেলার সাবগ্রাম দক্ষিণপাড়ার সজীব আহমেদ (৩২), শিবগঞ্জ উপজেলার কামতারা পশ্চিমপাড়ার লজিম প্রাং (৪০) এবং বগুড়া শহরের মালগ্রাম উত্তরপাড়ার সোহান শেখ (১৮)। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে লজিমের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগসহ দুটি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাত পৌনে ১১টার দিকে সিএনজি চালক রফিকুল ইসলামের স্ত্রী হাজেরা বেগম স্বামীকে উদ্ধারের জন্য বগুড়া ডিবি কার্যালয়ে যান। তিনি পুলিশকে জানান, অজ্ঞাত কয়েকজন ব্যক্তি তার স্বামীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোর করে একটি বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে তাকে মারধর করা হয় এবং দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তার কাছে থাকা ১৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

পরে রফিকুলকে আটকে রেখে তার স্ত্রীর মুঠোফোনে কল করে নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ২০ মিনিটের মধ্যে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। টাকা না দিলে তাকে আদালতে চালান করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। হাজেরা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অপহরণকারীরা তার স্বামীকে মারধর করে এবং মুঠোফোনে রফিকুলের চিৎকার ও কান্নার শব্দ শোনায়।

ঘটনায় মামলা হওয়ার আগেই বগুড়া ডিবির একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার ভোররাতে শহরের পুরান বগুড়ার শেরেবাংলা নগর এলাকায় অভিযান চালায়। পলাতক আসামি মেহেদী হাসান শিহাবের দোতলা বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সজীব আহমেদ, লজিম প্রাং ও সোহান শেখকে গ্রেপ্তার এবং ৪৩ বছর বয়সী রফিকুল ইসলামকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

ডিবির ওসি ইকবাল বাহার বলেন, ডিবি পুলিশ পরিচয়ে সিএনজি চালককে অপহরণ করে তার পরিবারের কাছে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিল। অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

বিষয় :