logo

লালমনিরহাটে পুলিশি বাধায় পণ্ড নির্মাণশ্রমিকদের সমাবেশ

লালমনিরহাটে পুলিশি বাধায় পণ্ড নির্মাণশ্রমিকদের সমাবেশ
লালমনিরহাটে পুলিশের বাধায় সমাবেশ পণ্ড হওয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন নির্মাণ শ্রমিক ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ। ছবি : এশিয়া পোস্ট

জেলা পরিষদ ও পুলিশ সুপারের অনুমতি নেওয়া সত্ত্বেও পুলিশের বাধায় পণ্ড হয়েছে লালমনিরহাটের নির্মাণ শ্রমিক ফেডারেশনের সমাবেশ। এর প্রতিবাদ ও তীব্র নিন্দা জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে মেহনতি মানুষের এই সংগঠনটি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে লালমনিরহাট শহরের প্রাণকেন্দ্র মিশন মোড়ের পলাশী হোটেলে এ সংবাদ সম্মেলন করেন সংগঠনটির বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নির্মাণ শ্রমিক ফেডারেশন লালমনিরহাট সদর উপজেলা শাখার সভাপতি জহুরুল হক বলেন, দেশের মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে নির্মাণ শ্রমিক ফেডারেশন গড়ে ওঠে এবং এটি সরকারিভাবে নিবন্ধিত (নিবন্ধন নং: বি-২২০৯)। নিবন্ধিত এই সংগঠনটির লালমনিরহাট জেলা ও সকল উপজেলা কমিটি ইতোমধ্যে গঠিত হয়েছে।

তিনি জানান, নবগঠিত সদর উপজেলা কমিটির পরিচিতি সভা করার জন্য নিয়ম অনুযায়ী গতকাল ২১ অক্টোবর লালমনিরহাট জেলা পরিষদ মিলনায়তন ভাড়া নেওয়া হয়। সভায় উপস্থিত থাকার জন্য জেলা পুলিশ সুপারকে দাওয়াতপত্রের পাশাপাশি অনুমতির আবেদনও জানানো হয়। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার বিকেলে পরিচিতি সভাটি হওয়ার কথা ছিল। সে লক্ষ্যে প্রচার-প্রচারণাসহ সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন নেতাকর্মীরা।

তবে অজ্ঞাত কারণ দেখিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে হঠাৎ করে ওই মিলনায়তনে সব ধরনের সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয় পুলিশ। কোনো যৌক্তিক কারণ দর্শাতে না পারলেও পুলিশ কাউকে সভাস্থলে ঘেঁষতে দেয়নি। মূলত অজ্ঞাত কারণে পুলিশের এই অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপে মেহনতি মানুষের শান্তিপূর্ণ সমাবেশটি পণ্ড হয়ে যায়। ওপর মহলের চাপেই পুলিশ এই বাধা দিয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে জহুরুল হক বলেন, কেন্দ্রীয়ভাবে আমাদের সংগঠনটি অরাজনৈতিক হওয়ায় সারাদেশের শাখাগুলোও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত। তবে ক্ষমতাসীন দলের একটি অঙ্গসংগঠন আমাদের তাদের ব্যানারে আসার আহ্বান জানালে আমরা তা প্রত্যাখ্যান করি। এটাই আমাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। তারা হয়তো আমাদের দলে টানতে ব্যর্থ হয়ে পুলিশের মাধ্যমে আমাদের এই শান্তিপূর্ণ সভা পণ্ড করেছে। আমাদের সংগঠন অরাজনৈতিক হলেও নেতাকর্মীরা ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন দলের সমর্থক হতে পারেন। পুলিশ ও প্রশাসনের এমন অনভিপ্রেত পদক্ষেপের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই।

একই প্রশ্নের জবাবে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান আলী বলেন, মেহনতি মানুষের এই সংগঠনের কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা ভাড়া নিয়েও প্রশাসন আমাদের মিলনায়তনে ঢুকতে দেয়নি। গরিবের ঘাম ঝরানো টাকাও প্রশাসন কৌশলে আত্মসাৎ করল। আমরা এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

জেলা পরিষদ মিলনায়তনের ইজারাদার (পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত) ময়নুল ইসলাম বলেন, নির্মাণ শ্রমিক ফেডারেশনকে মিলনায়তন ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্মাণ শ্রমিক দলের লোকজন এসে দাবি করে, তারা এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নয় এবং সভা হলে বিশৃঙ্খলা হতে পারে। তাই আমি আয়োজকদের পুলিশের অনুমতি নেওয়ার পরামর্শ দিই। তারা লিখিত অনুমতি এনে দিতে না পারায় সভা অনুষ্ঠিত হয়নি।

লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এরশাদ আহমেদ বলেন, সমাবেশ করার জন্য জেলা প্রশাসকের (ডিসির) অনুমতির প্রয়োজন হলেও তারা তা নেয়নি। তাছাড়া তাদের বিরোধী অপর একটি পক্ষও একই স্থানে জমায়েত হওয়ার গোপন সংবাদ ছিল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতেই তাদেরকে সভা-সমাবেশ করতে দেওয়া হয়নি।