logo

মৃত্যুর আগে সাজ্জাদের পা ধরে আকুতি করেন মুরাদ

মৃত্যুর আগে সাজ্জাদের পা ধরে আকুতি করেন মুরাদ

‘মুরাদের পথরোধ করে কোপাতে থাকে সাজ্জাদ, তার ভাইসহ কয়েকজন। হাসপাতালে যাওয়ার জন্য সাজ্জাদের পায়ে ধরে আকুতি করেছিল মুরাদ। হাসপাতালে যেন না যেতে পারে, এ জন্য আমার ভাইয়ের দুই পায়ের রগ কেটে দেয় সাজ্জাদ।’

শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) এশিয়া পোস্টের কাছে কথাগুলো বলছিলেন খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় সেনহাটি ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মুরাদ খাঁর ছোট ভাই মুনসুর খাঁ।

শুক্রবার বিকেলে সেনহাটি ইউনিয়নের বকশিবাড়ি কবরস্থানের সামনে তাকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেনের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর সাজ্জাদকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।

মুরাদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা উল্লেখ না করে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের কারণে দলীয় সব পদ থেকে সাজ্জাদকে বহিষ্কার করার কথা বলা হয়েছে।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে খুলনা জেলা শাখার অধীনস্থ দিঘলিয়া উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেনকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আবির সিদ্দিকী শুভ্র এশিয়া পোস্টকে জানান, মুরাদের সঙ্গে দিঘলিয়া থানা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেনের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দিঘলিয়া থানা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেনসহ ৪-৫ জন মুরাদের ওপর হামলা চালায়। আত্মরক্ষার জন্য মুরাদ বক্সিবাড়ি মসজিদ সংলগ্ন একটি দোকানে আশ্রয় নেয়। দুর্বৃত্তরা ওই দোকানের তালা ভেঙে দোকানের ভেতরই পুনরায় হামলা করে।

তিনি আরও জানান, তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে মুরাদের দুই পায়ের রগ কেটে দেয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।