logo

রয়ে গেল ঋণের বোঝা, পূরণ হলো না সচ্ছলতার স্বপ্ন

রয়ে গেল ঋণের বোঝা, পূরণ হলো না সচ্ছলতার স্বপ্ন

স্ত্রী ও তিন সন্তানসহ পাঁচ সদস্যের পরিবার পঁয়তাল্লিশ বছর বয়সি সদর আলীর। দিনমজুরি করে কুলানো যাচ্ছিল না। ভরণপোষণ ও সন্তানদের পড়ালেখার খরচ চালাতে হিমশিম অবস্থা। দিনে দিনে হয়ে উঠছিলেন ঋণগ্রস্ত। সুন্দর ভবিষ্যতের আশায় বিদেশে পাড়ি জমানোর সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু বাধ সাধল টাকার জোগান। পরিবারের সচ্ছলতার স্বপ্ন নিয়ে ঋণের টাকায় দুই বছর আগে মালদ্বীপ যান তিনি।

মালদ্বীপ থেকে শুক্রবার (১৩ মার্চ) ভোরে তার মৃত্যুর খবর শোনার পর পরিবার ও এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে বাড়ির পরিবেশ। স্থানীয়রাও ভিড় করছেন তাদের বাড়িতে।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) মালদ্বীপের ধিগুড়া আইল্যান্ডের একটি নির্মাণাধীন কোম্পানির লেবার কোয়ার্টারে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে সদর আলীসহ পাঁচ বাংলাদেশি নিহত হন। আহত হন আরও দুজন।

হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার মহব্বতখানি মহল্লায় শনিবার (১৪ মার্চ) সদর আলীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, চলছে শোকের মাতম। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন তার স্ত্রী ও তিন সন্তান।

পরিবার জানায়, শুক্রবার ভোরে সাহরির সময় মালদ্বীপ থেকে সদর আলীর এক সহকর্মী ফোন করেন। তিনি জানান, বাসায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে সদর আলীসহ সাতজন আহত হয়েছেন। কিছুক্ষণ পর আবার ফোন করে সদর আলীর মৃত্যুর খবর জানানো হয়। 

সদর আলীর বড় ভাই জমির আলী জানান, তারা আট ভাই। সদর আলী ছিলেন চার নম্বর। তার দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। মেয়েরা বড়, ছেলেটি অষ্টম শ্রেণিতে পড়ছে।

তিনি এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘সংসার চালাতে গিয়ে সদর আলী অনেক ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল। মেয়েদের বিয়ের চিন্তা আর সংসারের দায়ে শেষ পর্যন্ত এই বয়সেই বিদেশ যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। আমরা অনেক নিষেধ করেছিলাম। কিন্তু সে বলত—মেয়েগুলো বড় হয়েছে, তাদের বিয়ে দিতে হবে।’

জমির আলী আরও জানান, দেশে থাকতেই সদর আলীর ঋণ ছিল। বিদেশ যাওয়ার জন্য উচ্চ সুদে আরও ঋণ নেন তিনি। সব মিলিয়ে প্রায় ১০ লাখ টাকার বেশি ঋণের বোঝা রয়েছে।

ছোট ভাই জয়ধর আলী বলেন, ‘পরিবারটি এখন চরম বিপদে রয়েছে। সরকারের কাছে আমাদের আবেদন, দ্রুত মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করা হোক এবং পরিবারটির পাশে দাঁড়ানো হোক।’

সদর আলীর বড় মেয়ে মীম আক্তার বানিয়াচং জনাব আলী সরকারি কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘বাবা আমাদের ভালো ভবিষ্যতের জন্য বিদেশ গিয়েছিলেন। এখন আমরা কীভাবে চলব, আমাদের পড়াশোনা কীভাবে হবে—কিছুই বুঝতে পারছি না।’