চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, আটক ৬

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ঝটিকা মিছিল ও সমাবেশ করেছেন। এসব কর্মসূচির বক্তব্য ও স্লোগানের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার পর পুলিশ পৃথক অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে আটক করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ফটিকছড়িতে তিনজন, হাটহাজারীতে দুজন ও সন্দ্বীপে একজনকে আটক করা হয়। এর মধ্যে ফটিকছড়িতে আটক তিন যুবকের মধ্যে একজনকে পুরনো একটি মামলায় এবং অপর দুজনকে মিছিলের ঘটনায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ফটিকছড়ির পাইন্দং ইউনিয়নে ১৫ আগস্ট রাতে আয়োজিত একটি মিছিল থেকে স্থানীয়দের সহায়তায় তিনজনকে আটক করে পুলিশ। ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে সন্দ্বীপ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মাহফুজুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক সামি উদ দৌলাকে একটি কক্ষে বঙ্গবন্ধুর ছবিতে শ্রদ্ধা জানাতে দেখা যায়। তবে ভিডিওটির ধারণস্থান নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এছাড়া সন্দ্বীপে কয়েকজন কিশোর স্লোগান দিলে পুলিশ এক কিশোরকে আটক করে। রাতে সন্দ্বীপ উপজেলা পরিষদের শহীদ মিনারে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা শ্রদ্ধা জানাতে গেলে যুবদলের নেতাকর্মীরা তাদের ধাওয়া দেন বলে জানা গেছে।
অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগের নেতা মিনহাজুল আবেদিন সনির উদ্যোগে একটি কক্ষে দোয়া মাহফিল ও খাবার বিতরণ করা হয়। নগরীর ব্যস্ততম জিইসি মোড়ে ছাত্রলীগ নেত্রী সাবরিনা চৌধুরীর নামে টানানো একটি শোক ব্যানার পরবর্তীতে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা সরিয়ে ফেলেন। সীতাকুণ্ডের সুপ্তধারা ঝরনা এলাকা থেকেও যুবকদের স্লোগান দেওয়ার একটি ভিডিও ছড়ায়, যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে হাটহাজারীতে এক সভায় বক্তব্য দিতে দেখা যায় চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি তালুকদার পারভেজ আনসারীকে। এছাড়া উপজেলার এগারো মাইল এলাকায় উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হাসানের নেতৃত্বে একটি ঝটিকা মিছিলের খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় পুলিশ দুজনকে আটক করলেও তাদের পরিচয় প্রকাশ করেনি।
সামগ্রিক পরিস্থিতির বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (জনসংযোগ) মোহাম্মদ রাসেল জানান, এসব কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।



