logo

নারীঘটিত কেলেঙ্কারির অভিযোগে যুবদল নেতাকে অব্যাহতি

নারীঘটিত কেলেঙ্কারির অভিযোগে যুবদল নেতাকে অব্যাহতি

ফেনীর ফুলগাজীতে নারীঘটিত কেলেঙ্কারির অভিযোগে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মনিরকে দল থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে কেন তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না, তা জানতে চেয়ে সাত দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ​

বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে ফুলগাজী উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ফরিদ আহমদ ভূঁইয়া ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হুদা শাহিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২১ এপ্রিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে মনিরুজ্জামান মনিরের একটি নারীঘটিত ভিডিও ফুটেজ তাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। তার এই ধরনের কার্যক্রম সংগঠনের শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে বলে প্রতীয়মান হওয়ায় তাকে পদসহ দলের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ঘটনা তদন্ত করে আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন—ফুলগাজী উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ইব্রাহিম হোসেন, মোশারফ হোসেন সোহেল ও বেলাল হোসেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২০ এপ্রিল মধ্যরাতে ফুলগাজীর আমজাদহাট ইউনিয়নের পূর্ব বসন্তপুর গ্রামের বিবি কুলসুম নামের এক বিধবা নারীর ঘর থেকে যুবদল নেতা মনিরুজ্জামান মনিরকে আটক করেন এলাকাবাসী। পরে ওই নারী ও মনিরকে জড়িয়ে ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে অভিযোগ অস্বীকার করে মনিরুজ্জামান মনির এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন, তিনি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার। তার ভাষ্যমতে, ওই রাতে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি তাকে ধাওয়া করলে প্রাণ বাঁচাতে তিনি পাশের ওই বাড়িতে আশ্রয় নেন। মাদক ও অবৈধ মাটি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকায় প্রতিপক্ষরা তাকে পরিকল্পিতভাবে হেয়প্রতিপন্ন করছে। বিষয়টি পূর্ব পরিকল্পিত ও তাকে ফাঁসানো ও সমাজে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানান।

ফুলগাজী উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া জানান, আমরা বিষয়টি জানতে পেরে তাকে সাময়িক অব্যাহতি দিয়েছি। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফুলগাজী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম মিজানুর রহমান জানান, বিষয়টি সম্পর্কে পুলিশ অবগত রয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।