আখ চুরি করতে আসা সেই ভারতীয় নাগরিককে পুলিশে সোপর্দ

পঞ্চগড়ের সীমান্তবর্তী এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে আটক ভারতীয় নাগরিক দীপঙ্কর গোপকে (৩৫) থানায় সোপর্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ের পতাকা বৈঠক শেষে তাকে থানায় হস্তান্তর করা হয়।
আটক দীপঙ্কর গোপ ভারতের জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ থানার তসরপাড়া গ্রামের মিশ্রিপাল গোপের ছেলে। পেশায় তিনি একজন চা-শ্রমিক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ৭৪২ নম্বর মেইন পিলারের ১২ নম্বর সাব-পিলার এলাকা অতিক্রম করে পঞ্চগড় সদর উপজেলার সাতমেড়া ইউনিয়নের বিরাজোত গ্রামে প্রবেশ করেন দীপঙ্কর। সেখানে স্থানীয় এক ব্যক্তির ক্ষেত থেকে আখ তোলার সময় তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে তাকে উদ্ধার করে বিজিবির হেফাজতে দেওয়া হয়।
ঘটনাটি ঘিরে একই সীমান্তে নিখোঁজ এক বাংলাদেশি বৃদ্ধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা জানান, গত বুধবার সকালে গরু খুঁজতে গিয়ে সীমান্তের শূন্যরেখার কাছাকাছি চলে গেলে তমিজ উদ্দিন (৭৮) নামে এক প্রবীণ বাংলাদেশিকে ধরে নিয়ে যায় ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। বৃদ্ধ তমিজ উদ্দিন কানে কম শোনেন এবং শারীরিকভাবে অসুস্থ। তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা সোচ্চার হন।
এ পরিস্থিতিতে রোববার বিকেলে পঞ্চগড় সদর উপজেলার মাগুরমারী সীমান্ত এলাকায় বিজিবি এবং বিএসএফের ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে আধাঘণ্টা পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিএসএফ দাবি করে, ওই বাংলাদেশি বৃদ্ধকে কাঁটাতারের বেড়া কাটার অভিযোগে ভারতীয় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল তাইফুর হাসান মাহমুদ বলেন, একজন দৃষ্টি ও শ্রবণশক্তিহীন প্রবীণ ব্যক্তি কীভাবে কাঁটাতারের বেড়া কাটবেন—তা বোধগম্য নয়। আমরা বিএসএফের এই দাবির যৌক্তিক প্রতিবাদ জানিয়েছি।
এ বিষয়ে পঞ্চগড় সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আশীষ কুমার শীল জানান, ভারতীয় ওই নাগরিককে পুলিশের কাছে হস্তান্তরের পর তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
.png)


