logo

সেচ নিয়ে চরম বিপাকে দোয়ারাবাজারের হাজারো কৃষক

সেচ নিয়ে চরম বিপাকে দোয়ারাবাজারের হাজারো কৃষক

ভারতের মেঘালয় পাহাড় থেকে নেমে আসা পানি জমা হয় সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার সীমান্তবর্তী চিলাই নদীর রাবার ড্যামে। এই ড্যামের পানি দিয়ে নদীর দুই তীরে হয় বোরো ধান চাষাবাদ। বাংলাবাজার ও বোগলা ইউনিয়নের দেড় হাজার কৃষকের প্রায় ৩ হাজার বিঘা জমিতে ফলে প্রায় ২ হাজার টন বোরো ধান।

কিন্তু চলতি মওসুমে রাবার ড্যামের পানি আটকানোর রাবারের ব্যাগ ছিঁড়ে কয়েক মাসের জমানো পানি বের হয়ে গেছে। বর্তমানে পানি ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। নদীর পানির স্তর অনেক নিচে নেমে যাওয়ায় চাষকৃত জমিতে পানি দিতে পারছেন না কৃষকরা। এতে চাষাবাদ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন দুই ইউনিয়নের হাজারো কৃষক।

যদিও রাবার ড্যাম নির্মাণকারী বিএডিসির সুনামগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী জানিয়েছেন, রাবার ড্যাম মেরামত করা ও কৃষকদের পানি সেচের জন্য কাজ চলছে। দ্রুতই সমস্যার সমাধান করা হবে।

জানা যায়, ২০১৭ সালে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) তত্ত্বাবধানে চিলাই নদীর ওপর প্রায় ৭ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬৫ মিটার দীর্ঘ ও সাড়ে চার মিটার উচ্চতার রাবার ড্যাম নির্মাণ করা হয়। এরপর এই ড্যামের পানি দিয়ে চিলাই নদী ও একই এলাকার খাসিমা মারা নদীর দুই তীরের কৃষকরা চাষাবাদ করছেন। সম্প্রতি রাবার ড্যামের রাবারের ব্যাগ ছিঁড়ে পানি বের হয়ে যাওয়ায় নদী থেকে ড্রেনের মাধ্যমে সরাসরি জমিতে পানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এখন নদীর তলদেশ থেকে পাম্পের মাধ্যমে পানি সেচ দিতে হবে এবং কৃষকদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হবে।

বাংলাবাজার ইউনিয়নের পুরানবাঁশতলা গ্রামের কৃষক জসীম উদ্দিন এশিয়া পোস্টকে বলেন, রাবার ড্যামের জমা সব পানি বের হয়ে গেছে। ফলে আমাদের ১৯০ বিঘা জমিতে এখন নদী থেকে ড্রেনের মাধ্যমে সরাসরি পানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। যেহেতু নদীর পানি অনেক নিচে তাই পাম্পের মাধ্যমে পানি সেচ দিতে হবে। এমন অবস্থা কোনো সময় হয়নি। 

বোগলা ইউনিয়নের আন্ধাইরগাঁও গ্রামের কৃষক ও চিলাই নদী উত্তর বালিছড়া পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লি.-এর সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার আহমেদ সুজন আকন্দ। তিনি এশিয়া পোস্টকে বলেন, রাবার ড্যামের পানি দিয়ে প্রায় ৩ হাজার বিঘা জমি চাষাবাদ হয়। কিন্তু হঠাৎ করে ড্যামের রাবারের জোড়া খুলে যাওয়ায় সব পানি বের হয়ে গেছে। বিএডিসির লোকজন রাবার জোড়া লাগানোর কাজ করছেন। আশা করছি রাবার ড্যাম আবার সচল হবে। নদীর পানি ভরা থাকলে দুই তীরে ৫টি ড্রেনের মাধ্যমে সহজে পানি সেচ দেওয়া যেত। এখন নদীর পানি নিচে নেমে যাওয়ায় পাম্প দিয়ে সেচ দিতে হবে। এতে কৃষকদের খরচ কিছু বাড়বে তবে সেচের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। 

বোগলাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মিলন খান এশিয়া পোস্টকে বলেন, তিন-চার মাসের জমানো পানি রাবার ড্যাম থেকে বের হয়ে যাওয়ায় কৃষকদের বোরো জমি সেচ সংকটের মুখে পড়েছে। রাবার ড্যাম সমিতির লোকজন ও আমরা বিএডিসি কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি, তারা এটি মেরামতের চেষ্টা করছেন।

বিএডিসির সুনামগঞ্জ অফিসের সহকারী প্রকৌশলী কাজী হোসনে আর রাফি এশিয়া পোস্টকে বলেন, দোয়ারাবাজার উপজেলার চিলাই নদীর রাবার ড্যামের সমস্যার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এটি দ্রুত মেরামত করার জন্য কাজ চলছে। পাশাপাশি কৃষকদের সেচ সুবিধার জন্য পাম্প বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি।