logo

এশিয়া পোস্টে সংবাদ প্রকাশ/আলোচিত কিশোর গ্যাং ‘রতন গ্রুপের’ প্রধান গ্রেপ্তার

আলোচিত কিশোর গ্যাং ‘রতন গ্রুপের’ প্রধান গ্রেপ্তার
কিশোর গ্যাং ‘রতন গ্রুপের’ প্রধান ইমরান হোসেন ওরফে রতন। ছবি: আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সৌজন্যে

কুমিল্লায় আলোচিত কিশোর গ্যাং ‘রতন গ্রুপের’ প্রধান ইমরান হোসেন ওরফে রতনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। ২০২২ সালে নগরীর মিশনারি স্কুলের সামনে কিশোর গ্যাংয়ের দুই পক্ষের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত শাহাদাত হত্যা মামলার প্রধান আসামি তিনি।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাতে কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের অভিযানের সময় রতনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার।

পুলিশ জানায়, ২০২২ সালে নগরীর মিশনারি স্কুলের সামনে কিশোর গ্যাংয়ের দুই পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শাহাদাত হত্যার ঘটনা ঘটে। ওই হত্যা মামলায় রতনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে অস্ত্রসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি পুলিশের নজরদারিতে ছিলেন।

গ্রেপ্তারের পর রতনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার সঙ্গে আরও কারা জড়িত এবং কিশোর গ্যাংয়ের কার্যক্রমে তাদের ভূমিকা কী ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এর আগে কিশোর গ্যাং ‘রতন গ্রুপের’ কার্যক্রম নিয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর এশিয়া পোস্টে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে কুমিল্লা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের একটি মিছিলে রতনের উপস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। পরে কুমিল্লা মহানগর ছাত্রদলের সহসভাপতি মো. মহসিনের সঙ্গে রতনের কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

প্রায় দুই মিনিট তিন সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে মিছিলে রতনের উপস্থিতি এবং তাকে নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের বিষয় নিয়ে কথোপকথন করতে দেখা যায়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।

রতনের স্ত্রী হ্যাপী তার স্বামীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, এবার রতন কোনো অপরাধ করেননি, তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে।

হ্যাপী বলেন, যারা ফাঁসিয়েছে, তারাই মূল কিশোর গ্যাংয়ের নেতা। এ বিষয়ে প্রমাণও আছে। অথচ তারা বাইরে ঘুরছে। আমার জামায় নির্দোষ হওয়া সত্ত্বেও তাকে ফাঁসানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, তাদের মূল নেতা মহসিন। তার বিরুদ্ধে প্রমাণ পাওয়ার পরও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। কারণ সে ছাত্রদল নেতা। আমরা সাধারণ মানুষ, তাই আমাদের এত হয়রানি করা হচ্ছে।

রতনের স্ত্রীর এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে কুমিল্লা মহানগর ছাত্রদলের সহসভাপতি মো. মহসিনের ফোনে কল দিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, গ্রেপ্তারের পর রতনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার সঙ্গে আরও কারা জড়িত ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রতনের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।