ঋণ করে ছেলেকে বিদেশ পাঠাচ্ছিলেন বাবা, সড়কে প্রাণ গেল মায়ের

ছেলেকে কাজের সূত্রে সৌদি আরব পাঠানোর সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছিল। বিদেশযাত্রার জন্য ঋণ করে ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা জোগাড়ও করেছিলেন বাবা। কিন্তু ছেলেকে ঢাকায় পৌঁছে দিতে যাওয়ার পথেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন মা। এই ঘটনায় বাবা ও প্রবাসগামী ছেলেও আহত হয়েছেন।
সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কিশোরগঞ্জের ভৈরব-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের পাকুন্দিয়া উপজেলার পুলেরঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মোছা. জয়বাহার (৪৫) কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার সদর ইউনিয়নের পূর্বগ্রাম শান্তিপুর এলাকার বাসিন্দা রাশিদ মিয়ার স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার দুপুর ১২টার দিকে ছেলে নিরবকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন পরিবারের সদস্যরা। পাকুন্দিয়ার পুলেরঘাট এলাকায় পৌঁছালে তাদের বহনকারী গাড়িটির সঙ্গে একটি পণ্যবাহী লরির সংঘর্ষ হয়। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা আহতদের উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জয়বাহারের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে ঢাকায় নেওয়ার পথে নরসিংদীর ইটেরখোলা এলাকায় অ্যাম্বুলেন্সেই তার মৃত্যু হয়।
নিহতের ভাতিজা আল-আমিন জানান, আগামী শুক্রবার নিরবের সৌদি আরব যাওয়ার কথা ছিল। অকাল মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় মাকে হারিয়ে পুরো পরিবার ভেঙে পড়েছে। তিনি দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এদিকে আহত মো. নিরব অভিযোগ করে বলেন, দুর্ঘটনার পর কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে তারা দ্রুত ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা পাননি, যার ফলে তার মায়ের শারীরিক পরিস্থিতি আরও আশঙ্কাজনক হয়ে ওঠে।
নিহতের স্বামী রাশিদ মিয়া বলেন, ছেলেকে বিদেশ পাঠানোর জন্য ঋণ করে ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা জোগাড় করেছিলাম। এখন স্ত্রীকে হারিয়ে আমাদের সব শেষ হয়ে গেল।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রাশিদ মিয়া ও জয়বাহার দম্পতির তিন মেয়ে ও এক ছেলে। ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়ে পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতা দূর করার স্বপ্ন দেখছিলেন তারা।
কটিয়াদী হাইওয়ে থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ নবীনুর রহমান জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই লরিটিকে শনাক্তের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান।


