logo

পাশাপাশি কবরে মিহাদ-মায়ামনি, থামছে না মা-বাবার কান্না

পাশাপাশি কবরে মিহাদ-মায়ামনি, থামছে না মা-বাবার কান্না

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে ভাসমান সেতু ভেঙে পড়ে ব্রহ্মপুত্র নদে ডুবে প্রাণ হারানো পাঁচ শিশুর মধ্যে রয়েছে দুই ভাই-বোন। ডাকাতিয়াপাড়া গ্রামের জয়নাল মিয়ার ১০ বছর বয়সী মেয়ে মায়ামনি ও ১২ বছর বয়সী ছেলে মিহাদ। তাদের মৃত্যুতে বাড়িটি এখন শোকে স্তব্দ। চারদিকে শুধু পরিবারের সদস্যদের কান্না আর আহাজারি।

রোববার (২২ মার্চ) সকালে দেওয়ানগঞ্জ নৌ টার্মিনাল মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি দুই ভাই-বোনকে শায়িত করা হয়। তাদের মৃত্যুতে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। ঈদের আগমুহূর্তে এমন মৃত্যুতে পুরো পরিবারের আনন্দ বিষাদে রূপ নিয়েছে।

রোববার দুপুরে জয়নাল আবেদীনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনদের বুকফাটা কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশ। মা বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন, আবার জ্ঞান ফিরেই ছেলে-মেয়ের নাম ধরে বিলাপ করছেন। স্বজনরা কেউ-ই এই শোক মানতে পারছেন না। প্রতিবেশীরাও ছুটে এসেছেন, সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ঈদের দিন দুই ভাই-বোনসহ অনেক শিশু সেতুতে ঘুরতে গিয়েছিল। কে জানত, সেই যাওয়া হবে জীবনের শেষ যাওয়া! একসঙ্গে অনেক মানুষ ওঠায় হঠাৎ সেতু ধসে পড়ে, আর মুহূর্তেই নিভে যায় দুই ভাই-বোনসহ পাঁচ শিশুর প্রাণ।

কাঁদতে কাঁদতে মিহাদ ও মায়ামনির মা বলেন, ‘সকালে হাসতে হাসতে ঘর থেকে বের হয়ে ঈদের নামাজ পরে বাড়িতে আসে। দুপুরে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল আমার দুইটা সন্তান। বলছিল-আম্মু, একটু ঘুরে আসি। কে জানত, এটাই হবে তাদের শেষ যাওয়া! আমার বুক খালি করে দিয়ে গেলো গা। আমি এখন কাকে ডাকব, কারে বুকে জড়িয়ে রাখব? আল্লাহ তুমি আমারে কেন এই দুঃখ দিলা!’

দুই সন্তান হারিয়ে শোকে স্তব্ধ বাবা জয়নাল মিয়াও, শুধু অঝোরে চোখ দিয়ে পানি পড়ছে। একটু পরপর সন্তানদের নাম নিয়ে কেঁদে ওঠেন। ঠিকমতো কথাও বলতে পারছেন না।

এর আগে শনিবার (২১ মার্চ) বিকালে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর নির্মিত একটি ভাসমান সেতু ভেঙে পড়ে নদে ডুবে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়। মারা যাওয়া পাঁচ শিশুরা হলো- জয়নাল মিয়ার মেয়ে মায়ামনি ও ছেলে মিহাদ, ঝালুরচর এলাকার শের আলীর আব্দুল মোতালেব (৬) ও মেয়ে খাদিজা (১২) এবং বেলতলি এলাকার হাবিবুল্লাহর ছেলে আবির হোসেন (১৪)।