আপনার লাশ ওই দীঘলি বিলে ভাসাব, ভূমি কর্মকর্তাকে আ.লীগ কর্মী

নওগাঁয় জমির নামজারি (খারিজ) বাতিল কেন্দ্র করে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে থানা আওয়ামী লীগের এক নেতার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তার উদ্দেশে ওই নেতাকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনার লাশ আমি দীঘলি বিলের পানিতে ভাসিয়ে দেব। আপনাকে চ্যালেঞ্জ করলাম।’
সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে নওগাঁ শহরের কালিতলা এলাকায় অবস্থিত নওগাঁ পৌরসভা ও চন্ডিপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার একটি ভিডিও এ প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।
অভিযুক্ত নেতার নাম মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি নওগাঁ সদর উপজেলার আওয়ামী লীগের কর্মী বলে জানা গেছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, নামজারির নথি হাতে পাঞ্জাবি-টুপি পরে নওগাঁ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তাফিজুর রহমান ভূমি অফিসে ঢোকেন। সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন দুবলহাটি-শৈলগাছী ও শিকারপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম। তাকে দেখেই উত্তেজিত হয়ে পড়েন মোস্তাফিজুর রহমান। তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনি কেমন করে রানীনগর থেকে দুবলহাটিতে যান, সেটা আমি দেখব। কাগজপত্র না দেখে আপনি আমার খারিজ বাতিল করলেন কেন? এর আগেও একবার বাতিল করেছিলেন। সেটা ফেরত আনতে ১৫ দিন লেগেছে।’
জবাবে ভূমি কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আপনার আবেদনটি তিন মাস ধরে আইডিতে ঝুলে ছিল। দাগ নম্বর সংশোধন করে আসতে বলেছিলাম।’
এ কথা শুনে আরও উত্তেজিত হয়ে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘সংশোধন করে নিয়ে আসব, কিন্তু তার আগেই আপনি বাতিল করলেন কেন? আপনি কি খালি হাতে মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়া-আসা করেন? আমার ক্ষতি করে যেতে পারবেন? আপনার লাশ দিঘলীর বিলে ভাসিয়ে দেব। চ্যালেঞ্জ করলাম। কীভাবে অফিস থেকে বাড়িতে যান সেটি দেখে নেব।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটা হুমকি নয়, সবার সামনে বলছি। আমি এটা করে দেখাব। এরপর আমার যা হওয়ার হবে।’
মোস্তাফিজুর রহমান অভিযোগ করে জানান, গত ১৮ মে তিনি নিজের একটি জমির নামজারি (খারিজ) করার জন্য আবেদন করেছিলেন। প্রথমে আবেদনটি বাতিল করা হয়, এরপর পুনরায় আবেদন করলেও সেটিও বাতিল হয়। এভাবে তাকে বারবার হয়রানি করেছেন ভূমি কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম।
এ বিষয়ে ভূমি কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম সাংবাদিকের ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি।
নওগাঁ সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নূরে আলম সিদ্দিক বলেন, ‘বিষয়টি আপস-মীমাংসা করা হয়েছে। হুমকিদাতা ওই ব্যক্তি ক্ষমা চেয়েছেন।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে নওগাঁয় কর্মরত কয়েকজন ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা বলেন, ভূমি সেবা নিয়ে অসন্তোষ থাকলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ করার সুযোগ ছিল। অথচ সেটি না করে প্রকাশ্যে সবার সামনে অফিসে ঢুকে কর্মকর্তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে গেল। এটা রফাদফা করার আইনগত সুযোগ অ্যাসিল্যান্ডের নেই।
নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন মাহমুদ বলেন, ‘ভূমি অফিসে ঢুকে ভূমি কর্মকর্তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া ছোটখাটো বিষয় নয়। এই ধরনের ঘটনা আপস-মীমাংসার সুযোগ সেই। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে অ্যাসিল্যান্ড আইনগত পদক্ষেপ না নিলে বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান ইউএনও।



