ফকিরহাটে চুরি হওয়া ১১ গরু উদ্ধার, পিকআপসহ গ্রেপ্তার ৩

বাগেরহাটের ফকিরহাটে চুরি হওয়া ছোট-বড় ১১টি গরু উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় চোরাই গরু পরিবহনে ব্যবহৃত একটি পিকআপ ভ্যান জব্দ এবং আন্তঃজেলা গরু চোর চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাত ৩টা ৪০ মিনিটে খুলনার তেরখাদা উপজেলার বারাসাত ইউনিয়নের কাটেঙ্গা গ্রামে অভিযান চালিয়ে গরুগুলো উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা এসব গরুর বাজারমূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার শ্যামবাঘাত গ্রামের ইমরান শেখ (৪০), রামপাল উপজেলার সোলাকড়া দক্ষিণপাড়া গ্রামের নাহিদ শেখ (২৭) এবং খুলনার তেরখাদা উপজেলার কাটেঙ্গা গ্রামের আরিফ মোল্লা (৩৮)।
পুলিশ জানায়, ফকিরহাট থানায় দায়ের করা একটি গরু চুরি মামলার তদন্তে প্রাপ্ত আসামি ইমরান শেখ (৪০) ও নাহিদ শেখকে (২৭) গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমে ফকিরহাট উপজেলার শিউলি ফিলিং স্টেশন এলাকা থেকে চোরাই গরু পরিবহনে ব্যবহৃত একটি পিকআপ জব্দ করা হয়।
পরে তাদের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে খুলনার তেরখাদা উপজেলার কাটেঙ্গা গ্রামের আরিফ মোল্লার বাড়িতে অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। সেখানে গোয়ালঘরে রাখা চুরি হওয়া ১১টি গরু উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে চোরাই গরু নিজের কাছে রাখার অভিযোগে আরিফ মোল্লাকে (৩৮) গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, আসামি ইমরান শেখের বিরুদ্ধে হত্যা, গোপনে গৃহে প্রবেশ, চোরাই মাল গ্রহণ, বিশেষ ক্ষমতা আইন ও মারামারিসহ মোট ছয়টি মামলা ও একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) রয়েছে। নাহিদ শেখের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতি, চোরাই মাল গ্রহণ ও চুরির অভিযোগে তিনটি এবং আরিফ মোল্লার বিরুদ্ধেও চোরাই মাল গ্রহণ ও মারামারির অভিযোগে দুটি মামলা রয়েছে।
বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার বলেন, ফকিরহাটের গরু চুরি মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। চোর চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার এবং চুরি হওয়া গরু ও পরিবহনে ব্যবহৃত পিকআপ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
