logo

রাজশাহীতে শ্রমিকদের দুপক্ষের সংঘর্ষ-ককটেল বিস্ফোরণ, পরিস্থিতি থমথমে

রাজশাহীতে শ্রমিকদের দুপক্ষের সংঘর্ষ-ককটেল বিস্ফোরণ, পরিস্থিতি থমথমে

বাস চলাচলের সিদ্ধান্ত ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। 

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিকেল ৫টার দিকে রাজশাহীর শিরোইল বাস টার্মিনালে এই ঘটনা ঘটে। এলাকায় বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

স্থানীয়রা জানান, শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে পুরো এলাকার রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। টার্মিনাল এলাকাজুড়ে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় বাস টার্মিনালে অবস্থানরত যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এই ঘটনার পর থেকে সারা দেশের সঙ্গে রাজশাহীর বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। যদিও শ্রমিক নেতারা বলছেন, পরিস্থি স্বাভাবিক হলে শুক্রবার সকাল থেকে বাস চলাচল শুরু হবে।

জানা গেছে, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে মঙ্গলবার থেকে রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বুধবার দুপুরে প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করে চালু করেন শ্রমিক নেতারা। বাস চালু করা নিয়ে শ্রমিক নেতা ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। শ্রমিকরা নেতাদের কাছে বিচার চাইতে গেলে তারা সময় চান।

এতে শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম পাখিকে মারধর করেন। ইউনিয়ন অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেন। এ নিয়ে নেতাদের পক্ষ ও শ্রমিক পক্ষ হাতাহাতি ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার বিকেলে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

রাজশাহী জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম পাখি বলেন, আওয়ামী লীগের দোসরা পরিকল্পিতভাবে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য পরিবহন সেক্টরকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। লোক ভাড়া করে এনে শ্রমিকদের তারা হামলা চালিয়েছে।

আরেক শ্রমিকনেতা মোমিনুল ইসলাম মোমিন জানান, পাখির নেতৃত্বে কয়েক-হাজার লোক হামলা চালিয়ে তাদের বেশ কয়েকজনকে আহত করেছে।

এ বিষয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা  (ওসি) রবিউল ইসলাম জানান, ঘটনার পর থেকে বাস টার্মিনাল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।