মুরুব্বিরাও আ.লীগকে টিকিয়ে রাখতে পারেনি: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

পাঁচ আগস্টের পর মুরুব্বিরাও আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে পারেননি বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়কমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
শনিবার (২ অক্টোবর) দুপুরে দিনাজপুর সরকারি কলেজ হলরুমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রংপুর বিভাগীয় পর্যায়ের আন্তঃকলেজ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
জাহিদ হোসেন বলেন, বিগত ২০ বছর যারা ক্ষমতায় ছিলেন, দেশের মানুষের ওপর তাদের আস্থা ছিল না। তাদের আস্থা ছিল তাদের মুরুব্বিদের ওপর। মুরুব্বিরা যত দিন তাদের ক্ষমতায় রাখতে পারবেন, তত দিনই তারা ক্ষমতায় থাকবেন—এমন ধারণা ছিল তাদের। কিন্তু ৫ আগস্টের পর মুরুব্বিরাও আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে পারেননি। এরপর তারা সেই মুরুব্বিদের কাছেই আশ্রয় নিয়েছেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণমন্ত্রী তরুণ প্রজন্মকে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত করতে গতানুগতিক শিক্ষার বাইরে গিয়ে জীবনমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে খেলাধুলা, প্রযুক্তি, ভাষা শিক্ষা ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হবে মানুষ তৈরির ক্যাম্পাস। দলবাজির ক্যাম্পাস হবে না।
জাহিদ হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রতি তাদের পূর্ণবিশ্বাস আছে। তরুণদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে নেওয়ার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে আনন্দঘন পরিবেশে শিক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কার্যক্রমে যুক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
তিনি বলেন, ক্রীড়া খাতে সরকার ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এগুলো সাময়িক কোনো পদক্ষেপ নয়; দীর্ঘদিনের গবেষণা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ভিত্তিতেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের ধরে রাখতে ক্রীড়া ভাতা চালু করা হয়েছে। ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর প্রথম রাউন্ড সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিটি জেলায় ‘স্পোর্টস ভিলেজ’ এবং উপজেলায় স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। খেলাধুলার সুযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে তরুণদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো সম্ভব হবে।
যুবসমাজের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার গত সাত মাসে তরুণ যুবক ও তরুণীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে দুটি প্রশিক্ষণ সেশন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। মাত্র তিন মাসের প্রশিক্ষণ নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে সক্ষম হচ্ছেন। কর্মসংস্থান নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি বলেন, তরুণ সমাজকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুগঠিত করতে ক্রীড়াঙ্গনের ভূমিকার কোনো বিকল্প নেই। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় দেশের সবচেয়ে বড় শিক্ষাপরিবার; এই বিশাল যুবশক্তিকে কেবল শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ না রেখে খেলার মাঠে ছড়িয়ে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য, যেন তারা ভবিষ্যতে যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত হয়ে উঠতে পারে।
এদিকে তিন দিনব্যাপী আন্তঃকলেজ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আগামী ৬ অক্টোবর ফাইনাল খেলার মধ্য দিয়ে শেষ হবে। বিভিন্ন ইভেন্টে বিভাগীয় পর্যায়ে যারা প্রথম হয়ে স্বর্ণপদক অর্জন করবেন, তারা পরবর্তী সময়ে জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।