পাঁচ কোটির পানি শোধনাগার ২ বছরেও হয়নি চালু

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ পৌরসভায় প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পানি শোধনাগার ২ বছরেও চালু হয়নি। ফলে বিশুদ্ধ পানি সংকটে পড়েছেন পৌরসভার ৬০০ পরিবারের অন্তত দুই হাজার মানুষ। দ্রুত শোধনাগারটি চালু করে সুপেয় পানি সরবরাহের দাবিতে মানববন্ধনও করেছেন তারা।
সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার সামনে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকালে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে পৌরসভার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
জানা গেছে, সুন্দরগঞ্জ পৌরসভায় বসবাসরত নাগরিকদের বিশুদ্ধ পানির চাহিদা মেটাতে ২০২২ সালে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় চার কোটি ৫৩ লাখ ৬৫ হাজার ৪৭৩ টাকা ব্যয়ে ২০০ ঘনমিটার ক্ষমতা সম্পন্ন একটি পানি শোধনাগার প্রকল্প তৈরির কাজ শুরু হয়। শেষ হয় ২০২৪ সালের জুন মাসে। পরের মাসে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর শোধনাগারটি পৌর কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেয়। কিন্তু শোধনাগারটি আজও চালু হয়নি।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সুন্দরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, পৌরবাসী এনামুল হক, সাইফুল ইসলাম, আবু সাঈদ মোহাম্মদ মুজাহিদ, শাহিন আলম, পৌরসভার সাবেক মেয়র নুরুন্নবী প্রামাণিক সাজুসহ অনেকে।
বক্তারা বলেন, পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির সংকট নিরসনে প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে পানি শোধনাগার নির্মাণ করা হয়েছে। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এটি চালু হয়নি। ফলে বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত স্থাপনাটি পড়ে থাকলেও এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন পৌরবাসী।
তারা আরও বলেন, পানি শোধনাগার নির্মাণের পরও পৌরবাসীর ঘরে সুপেয় পানি না পৌঁছানো অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুত প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষ করে শোধনাগারটি চালু এবং নিয়মিত সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পানি শোধনাগার চালু করে পৌরবাসীর জন্য সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান। এ সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে পৌরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে আরও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।

