Advertisement

‘১০ মিনিটে আমার বাড়ি ভেঙে চলে গেল, এখন কোথায় দাঁড়াব’

এশিয়া পোস্ট নিউজ, নীলফামারী
‘১০ মিনিটে আমার বাড়ি ভেঙে চলে গেল, এখন কোথায় দাঁড়াব’
নদীগর্ভে যাওয়া বাড়ির অংশ। ছবি: এশিয়া পোস্ট

মাত্র দশ মিনিটেই তছনছ হয়ে গেল একটি পরিবারসহ গোটা গ্রামের সুখ-শান্তি। চোখের সামনে নিজের তিল তিল করে গড়ে তোলা স্বপ্নের বসতবাড়িটি নদীগর্ভে তলিয়ে যেতে দেখে অসহায় কান্নায় ভেঙে পড়লেন হালিমা বেগম। ‘আমি চিৎকার করে গেট খোলার আকুতি জানিয়েছিলাম, কেউ শোনেনি। ১০ মিনিটের মধ্যে আমার বাড়িটা ভেঙে চলে গেল। অন্যের বাড়িতে কাজ করে খাই, এখন আমি কোথায় দাঁড়াব?’— হালিমার এই আকুল আর্তনাদ যেন বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে, কিন্তু তার এই বুকফাটা কান্নার কোনো উত্তর কারও জানা নেই।

রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে নীলফামারীর ডোমার উপজেলার জোড়াবাড়ী ইউনিয়নের পুব হলহলিয়া গ্রামে নেমে আসে এই আকস্মিক বিপর্যয়।

হরিডারা নদীর তীব্র স্রোত আর হঠাৎ নদীগর্ভে স্লুইসগেটটি ধসে পড়ায় নিমিষেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায় হালিমা বেগমের ভিটেমাটির অর্ধেক অংশ। শুধু একটি বসতবাড়ি নয়, এই দুর্ঘটনার পর থেকে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০টি পরিবারের চোখে-মুখে এখন শুধুই ভিটেমাটি হারানোর আতঙ্ক আর চরম ভোগান্তির ছাপ। চরম ভোগান্তি ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন তারা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্লুইস গেটটি দিয়ে নদীর পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা হতো। রোববার সকাল থেকেই গেটটি ধীরে ধীরে নিচের দিকে বসে যেতে থাকে। এক পর্যায়ে পানি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেলে পানির চাপ বেড়ে যায়। পরে সেতুর পাশে ইঁদুরের গর্ত দিয়ে পানি প্রবেশ করতে শুরু করলে সেখানে ভাঙনের সৃষ্টি হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই ভাঙন ভয়াবহ রূপ নেয় এবং পাশের একটি বসতবাড়ির অর্ধেক অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

আরেক বাসিন্দা মোছা. রহিমা বেগম বলেন, এই স্লুইসগেট দিয়েই এলাকার পানি নিয়ন্ত্রণ করা হতো। এখন এটি ভেঙে যাওয়ায় বর্ষা ও শুষ্ক— দুই মৌসুমেই কৃষকরা বড় ক্ষতির মুখে পড়বেন।

স্থানীয় কৃষক মো. আহিনুর ইসলাম বলেন, এই স্লুইসগেটের সামনে শত শত বিঘা জমিতে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের চাষ হয়। স্লুইসগেট না থাকলে পানি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে না। এতে জমি অনাবাদি হয়ে যাবে এবং কৃষকরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন।

জোড়াবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হাবীব বাবু এশিয়া পোস্টকে বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। দ্রুত জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্থায়ী সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

ডোমার উপজেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ফিরোজ আলম এশিয়া পোস্টকে বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ইঁদুরের গর্ত দিয়ে পানি প্রবেশের কারণে ভাঙনের সূচনা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। যত দ্রুত সম্ভব নতুন সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হবে।