পিরোজপুরের মঠবাড়ীয়ায় সাপ্তাহিক পাঠচক্র ‘পাঠ চত্ত্বরের’ যাত্রা শুরু

বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা, মুক্তচিন্তা ও জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি এবং একটি জ্ঞানভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় যাত্রা শুরু করেছে সাপ্তাহিক পাঠচক্র ‘পাঠ চত্ত্বর’।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় মঠবাড়িয়ার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ খাস মহল লতিফ ইন্সটিটিউশনের পুকুরপাড়ে এ পাঠচক্রের প্রথম পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। মঠবাড়িয়া উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আতাউর রাব্বী এই পাঠ চত্ত্বরের উদ্বোধন করেন। এই পাঠচক্রে শিক্ষক, কবি, সাংবাদিক, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
সম্প্রতি যোগদানের পর থেকে মঠবাড়ীয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আতাউর রাব্বী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি জ্ঞানচর্চা, সৃজনশীলতা ও মননশীলতা বিকাশে শিক্ষার্থীবান্ধব নানা কার্যক্রম নেওয়ার এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে তাদের সম্ভাবনা বিকাশে বিভিন্ন ইতিবাচক উদ্যোগে উৎসাহ দিয়ে আসছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় পাঠচক্র কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগের কথা জানালে তিনি প্রত্যক্ষ উৎসাহ ও সহযোগিতা প্রদান করেন।
আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতি শুক্রবার দুই ঘণ্টার এ পাঠচক্রে প্রথম এক ঘণ্টা নীরবে বই পড়া এবং পরবর্তী এক ঘণ্টায় বই পর্যালোচনা, মুক্ত আলোচনা, প্রশ্নোত্তর ও অভিজ্ঞতা বিনিময় অনুষ্ঠিত হবে।

‘পাঠ চত্ত্বর’-এর আয়োজকদের পক্ষ থেকে মো. গোলাম রাব্বি বলেন, আমরা এমন একটি সময়ে বাস করছি, যখন আমাদের হাতে তথ্যের অভাব নেই; কিন্তু গভীরভাবে পড়া, ভাবা এবং সেই ভাবনা নিয়ে কথা বলার সময় ও সুযোগ ক্রমেই কমে যাচ্ছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস কমছে। অথচ একটি জ্ঞানভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গঠনে বইয়ের বিকল্প নেই। এই জায়গা থেকেই ‘পাঠ চত্ত্বর’-এর ভাবনা।
‘পাঠ চত্ত্বর’-এর আহ্বায়ক সৌরভ খরাতি বলেন, পাঠ চত্ত্বর কেবল বই পড়ার কোনো সাধারণ জায়গা নয়; এটি একটি সামাজিক আন্দোলন। প্রতি শুক্রবার মাত্র দুই ঘণ্টার জন্য আমরা এখানে একত্র হব। যেখানে থাকবে নিরিবিলিতে বই পড়ার সুযোগ, মুক্ত আলোচনা, চিন্তাশক্তির বিকাশ এবং পরস্পরের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পরিবেশ।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আতাউর রাব্বী শনিবার দুপুরে এশিয়া পোস্টকে বলেন, এটা একটি সামাজিক আন্দোলন, তাই উদ্যোক্তাদের পাশে আমি দাঁড়িয়েছি। তিনি আরও বলেন, জ্ঞানভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গড়ার মহৎ প্রয়াস নিয়ে কিছু নবোদ্দীপ্ত, স্বপ্নবান ও দায়িত্বশীল মানুষের পথচলার পাশে থাকতে পেরে আমি সত্যিই আনন্দিত ও গর্বিত।
আয়োজকরা জানান, উদ্যোগটি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবাভিত্তিক। স্থানীয় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, চাকরিজীবী, উদ্যোক্তা, সাহিত্যপ্রেমী ও সচেতন নাগরিকদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে এর কার্যক্রম পরিচালিত হবে। ভবিষ্যতে বই দান, সামাজিক অংশীদারিত্ব এবং স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, নিয়মিত পাঠচর্চা ও জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে মঠবাড়িয়ায় একটি শক্তিশালী পাঠকসমাজ গড়ে উঠবে এবং ‘পাঠ চত্ত্বর’ হয়ে উঠবে বই, চিন্তা, জ্ঞান ও মানবিক সম্পর্কের একটি উন্মুক্ত মিলনস্থল।

