Advertisement

আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে জামায়াতের এমপি

এশিয়া পোস্ট নিউজ, গাইবান্ধা
আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে জামায়াতের এমপি
আওয়ামী লীগ নেতা মোশাররফ হোসেনের বাড়িতে জামায়াত এমপি আব্দুল ওয়ারেছ। ছবি: এশিয়া পোস্ট

গাইবান্ধার সাঘাটা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জুলাই হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি মোশাররফ হোসেন সুইটের বাসায় গিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন গাইবান্ধা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতের জেলা নায়েবে আমির বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়ারেছ আকন্দ।

Advertisement

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সাঘাটা ইউনিয়ন জামায়াতের কয়েকজন নেতাকর্মীসহ আওয়ামী লীগের ওই নেতার বাসায় যান তিনি। সাঘাটা উপজেলা জামায়াতের আমির ইব্রাহিম আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে আওয়ামী লীগ নেতা মোশাররফ হোসেন সুইটের বাসায় গিয়ে তার পাশে থাকার আশ্বাস দেন এমপি আব্দুল ওয়ারেছ আকন্দ। এ সময় তার সাথে সাঘাটা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মো. শাফিউল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেলে স্থানীয় জামায়াত নেতাদের সাথে নিয়ে সাঘাটার কামালের পাড়া ইউনিয়নের অসুস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. আব্দুল কদ্দুছ মন্ডলেরও খোঁজখবর নেন এমপি আব্দুল ওয়ারেছ আকন্দ।

ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সাঘাটা ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব আতিকুর রহমান সরকার বলেন, সাঘাটা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি গত ১৭ বছর ধরে নানা অন্যায় কাজ করেছেন। ৪ আগস্ট সাঘাটার বোনারপাড়ায় জুলাই আন্দোলনের বিরুদ্ধে তিনি অস্ত্র হাতে নেতৃত্ব দিয়েছেন। আজ তার সাথে একজন জামায়াতের এমপি হাত মেলাচ্ছেন। এটি জুলাই যোদ্ধাদের সাথে চরম বেঈমানি ও গাদ্দারি ছাড়া আর কিছুই নয়।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন গাইবান্ধা জেলার সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শরিফুল ইসলাম আকাশ বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়ারেছ— জামায়াত ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমর্থিত এমপি হয়ে কীভাবে একজন তালিকাভুক্ত হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি ও চিহ্নিত ফ্যাসিবাদের দোসরের বাসায় যান? তিনি জুলাইয়ের কোনো শহীদ বা আহত পরিবারের পাশে না দাঁড়িয়ে এই আসামির পাশে দাঁড়িয়েছেন। এর জন্য তাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে, অন্যথায় গাইবান্ধায় কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

দেখা করার কথা স্বীকার করলেও বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি এমপি আব্দুল ওয়ারেছ আকন্দ ও সাঘাটা উপজেলা জামায়াতের আমির ইব্রাহিম আলী।

২০২৫ সালের ২২ মে গাইবান্ধা সদর থানায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে দায়ের করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় ৬৯ নম্বর আসামি করা হয় মোশাররফ হোসেন সুইটকে। এছাড়া যৌথ বাহিনীর অভিযানে তিনি অস্ত্রসহ গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন।