logo
Advertisement

টিউমার অস্ত্রোপচার করতে গিয়ে কাটা পড়ল নারীর পায়ের রগ

টিউমার অস্ত্রোপচার করতে গিয়ে কাটা পড়ল নারীর পায়ের রগ
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভুক্তভোগী নারী আনু বেগম। ছবি : এশিয়া পোস্ট

মাদারীপুরে সাধারণ একটি টিউমার অপসারণের অস্ত্রোপচার করতে গিয়ে এক নারীর পায়ের রগ কেটে ফেলার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। সুস্থ অবস্থায় স্বাভাবিকভাবে হেঁটে ক্লিনিকে যাওয়া আনু বেগম (৫৫) নামের ওই নারী এখন পঙ্গুত্বের শঙ্কা ও জীবনঝুঁকিতে পড়েছেন।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ভুক্তভোগী আনু বেগমের ছেলে বাবলু খান।

ভুক্তভোগী আনু বেগম সদর উপজেলার চর কালিকাপুর গ্রামের বাসিন্দা। ঘটনাটি ঘটেছে মাদারীপুর শহরের নুর জাহান সেলিম নিরাময় হাসপাতালে।

ভুক্তভোগীর স্বজনেরা জানান, পায়ের গোড়ালির ব্যথার জন্য রাজধানীর জাতীয় ক্যানসার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মাহমুদুল হাসান মাসুমের পরামর্শ নেন আনু বেগম। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে শুক্রবার সকালে অস্ত্রোপচার শুরু হয়। অভিযোগ উঠেছে, দেড় ঘণ্টা ধরে চলা এই চিকিৎসায় মারাত্মক জটিলতা দেখা দেয় এবং ভুলবশত পায়ের রগ কেটে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। পরবর্তীতে ডা. রুহুল আমিন চয়নের নেতৃত্বে দ্বিতীয় দফায় আবার অস্ত্রোপচার চালিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা পর রোগীকে বেডে দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী আনু বেগম আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমি হেঁটে ক্লিনিকে এসেছিলাম। ভুল অপারেশনের পর পায়ের অবস্থা নিয়ে চরম শঙ্কায় আছি। ভবিষ্যতে স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারব কি না, জানি না।’ তার ছেলে বাবলু খান এই গাফিলতির সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।

দরিদ্র কৃষক পরিবারটির অভিযোগ, ওষুধ বাবদ ৪০ হাজার টাকা খরচের পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আরও প্রায় ৭০ হাজার টাকার অন্যায্য বিল ঝুলিয়ে দিয়েছে।

অভিযোগ স্বীকার করে ডা. মাহমুদুল হাসান মাসুম জানান, পরীক্ষার রিপোর্টে ভুল থাকায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে অন্য চিকিৎসকদের নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে রোগী ঝুঁকিমুক্ত বলে দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে মাদারীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. শরীফুল আবেদিন কমল জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে ঘটনাটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। টিউমার কাটতে গিয়ে রগ কেটে ফেলার ঘটনায় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই তাদের দায় এড়াতে পারে না।