কর্মস্থলে ফেরেননি শজিমেক হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা

কর্মসূচি প্রত্যাহার করার ঘোষণা দিয়েও কর্মস্থলে যোগ দেন বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে তারা পুনরায় অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি অব্যাহত রেখেছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার রোগীর স্বজনদের সঙ্গে সংঘর্ষের পর হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার এবং চিকিৎসকদের নিরাপত্তাসহ চার দফা দাবিতে কর্মবিরতি শুরু করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। সংঘর্ষের ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে শুক্রবার এক আনসার সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই ঘটনায় আনসার কমান্ডারসহ ২০ জনকে বদলি করা হয়েছে।
হাসপাতালে ভাঙচুর ও চুরির অভিযোগে বুধবার সাতজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলা হয়। পুলিশ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বৃহস্পতিবার দুপুরে শজিমেক হাসপাতালের মিলনায়তনে এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক শেষে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। সংঘর্ষের ঘটনায় ছাত্রদলের পাঁচ নেতাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
বৈঠক চলাকালে বগুড়া শহর ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়— দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে সংগঠনের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের আহ্বায়ক মো. নাফিউল ইসলাম, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মনির হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. প্রান্ত ইসলাম, সদস্য রাকিবুল হাসান রাকিব এবং ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের সহসাংগঠনিক সম্পাদক এস এম শিহাবকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
কর্মসূচি প্রত্যাহারের পর পুনরায় কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। তাদের দাবি, চার দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত কাজে ফিরবেন না। চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাতীয় সংসদে নতুন আইন প্রণয়নের দাবিও জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কাজে ফেরানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা পুরোপুরি চালু করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আশা করি তারা দ্রুত কাজে ফিরবে।



