শেখ হাসিনা বিমানবন্দর থেকে ফাঁসির কাষ্ঠে যাবেন: সারজিস আলম

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এলে বিমানবন্দর থেকে ফাঁসির কাষ্ঠে নিয়ে যাওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরে আসতে চাইলে তাকে ঠেকাতে আলাদা করে কাউকে কিছু করতে হবে না। জুলাই আন্দোলনে যারা তাদের স্বজন হারিয়েছেন এবং যারা আহত হয়েছেন, তাদের পরিবার এখনও সেই ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছে। আন্দোলনে নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্যরা শেখ হাসিনাকে বিমানবন্দর থেকে ফাঁসির কাষ্ঠে নিয়ে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঝালকাঠি শহরের একটি পার্টি সেন্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন সারজিস আলম।
সেখানে জেলা এনসিপি আয়োজিত সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও কার্ড প্রকল্পের সমালোচনা করে সারজিস আলম বলেন, ফ্যামিলি কার্ড এখন আর আলোচনায় নেই। শুধু কার্ড তৈরির জন্য ২৪২ কোটি টাকা খরচ করার কথা বলা হয়েছিল। এটি রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয়। পরে তারা বুঝতে পেরেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। এই অর্থ কোথা থেকে আসবে, সেটিও বড় প্রশ্ন।
তিনি বলেন, জনগণের কল্যাণের কথা বলে বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে সেগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের ক্ষেত্রেও সরকার শেষ পর্যন্ত এটি বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলে বুঝতে পেরেছে। এ কারণে এখন এ প্রকল্প নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে তেমন কোনো আলোচনা করা হচ্ছে না বলে।
এই এনসিপি নেতা আরও বলেন, জনগণের অর্থ ব্যয় করে এমন কোনো প্রকল্প নেওয়া উচিত নয়, যা বাস্তবায়ন নিয়ে শুরু থেকে অনিশ্চয়তা থাকে। জনগণের অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা নেওয়া উচিত। নির্বাচনের আগে মানুষকে লোভনীয় অফার দিয়ে প্রলুব্ধ করা হয়েছিল।
সারজিস আলম বলেন, বিএনপি সরকারের ছয় মাস অতিবাহিত হয়েছে। এখন তারা বলছে, তারা শিশু। তাহলে তারা কবে তরুণ বা যুবক হবে। বিএনপি সরকারে আসার পর অনেক সংকট তৈরি হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ও এতটা সংকট দেখা যায়নি। সরকার পরিচালনার জন্য তাদের কোনো ব্যাকআপ বা প্রস্তুতি ছিল না।
এনসিপির কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম লংমার্চ শুরু করেছি। তারা এটাকে লং ড্রাইভ বলছে। অথচ বেগম খালেদা জিয়াও এভাবেই লংমার্চ করেছিলেন।
পরে ঝালকাঠি জেলা এনসিপি আয়োজিত সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালায় দলটির সাংগঠনিক কার্যক্রম, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং স্থানীয় পর্যায়ে দলকে আরও শক্তিশালী করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আরও এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা আলম মিতু, সাবেক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন, ঝালকাঠি জেলা এনসিপির সদস্য সচিব জুবায়ের হাওলাদারসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা।


