কোরআন বুকে নিয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবি বহিষ্কৃত কৃষকদল নেতার

কোরআন শরীফ বুকে নিয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার দুরমুঠ ইউনিয়ন কৃষক দলের বহিষ্কৃত সভাপতি মো. মতিউর রহমান তারা তালুকদার। মাদক মামলায় প্রায় দেড় মাস কারাভোগের পর সংবাদ সম্মেলন করে তিনি অভিযোগ করেছেন, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে তাকে পরিকল্পিতভাবে মাদক মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
মতিউর রহমান মেলান্দহ উপজেলার দুরমুঠ ইউনিয়নের সিন্দুরা ফসল গ্রামের বাসিন্দা এবং জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের দুরমুঠ ইউনিয়ন শাখার সভাপতি ছিলেন। গত ১৫ আগস্ট গ্রেপ্তারের পর ১৭ আগস্ট তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মতিউর রহমান বলেন, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আখতারুজ্জামান বাদল, সহসভাপতি জিয়াউল হক জিয়া, যুবদলের হেলাল, হযরত আলী আন্না, প্যানেল চেয়ারম্যান বিলাশ সরকার, সভাপতি অপুসহ স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতার অনিয়ম, চাঁদাবাজি ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে তিনি প্রতিবাদ করে আসছিলেন। এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় তিনি দলের কিছু নেতার বিরাগভাজন হন। একপর্যায়ে তাকে পথের কাঁটা হিসেবে সরিয়ে দিতে পরিকল্পিতভাবে মাদক মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
কোরআন শরীফ বুকে নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার ঘরে কোনো মাদক ছিল না। বাইরে থেকে ইয়াবা এনে আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। আমি অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছি বলেই আমার বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
সংবাদ সম্মেলনে মতিউর রহমান দাবি করেন, তিনি সাজানো মামলায় প্রায় দেড় মাস কারাভোগ করেছেন। ২৪-এর আন্দোলনের ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি দলের ভেতরের বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। চাঁদাবাজি ও অবৈধ বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করায় স্থানীয় কয়েকজন নেতা তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। এর জেরেই তাকে মাদক মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
মতিউর রহমানের স্ত্রী বিউটি বেগম সংবাদ সম্মেলনে ডিবি পুলিশের বিরুদ্ধে টাকা দাবির অভিযোগ করে বলেন, অভিযানের পর হেলাল উদ্দিন নামে ডিবির এক সদস্য তার কাছে প্রথমে দুই লাখ টাকা চাওয়া হয়। পরে অনেক অনুরোধ করেও বিষয়টি সমাধান না হওয়ায় গহনা বন্ধক রেখে ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ করেন তিনি। টাকা দেওয়ার পর তার স্বামীর মোটরসাইকেলটি ছেড়ে দেওয়া হয়।
এদিকে দলের নেতাদের বিরুদ্ধে তাকে ফাঁসানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দুরমুঠ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি সৈয়দ রাশেদুজ্জামান অপু মিয়া। তিনি বলেন, ‘তার আনা অভিযোগ সঠিক নয়। পুলিশ ইয়াবা পেয়েছে, তাকে ধরেছে। আমরা কী করব? আপনারা স্থানীয় লোকজনকে জিজ্ঞাসা করেন, তিনি কেমন মানুষ। দলের কেউ তাকে ফাঁসায়নি।’
অপরদিকে পুলিশের দাবি, গত ১৬ আগস্ট দিবাগত রাতে মেলান্দহ উপজেলার দুরমুঠ ইউনিয়নের সিন্দুরা ফসল এলাকায় মতিউর রহমান তারার বাড়িতে অভিযান চালায় জেলা ডিবি-২। এ সময় তার বসতবাড়ি থেকে ২০ পিস ইয়াবাসহ তাকে আটক করা হয়। পরে ১৭ আগস্ট মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে জামালপুর ডিবি-২-এর এএসআই হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘তার কাছে মাদক পাওয়া গিয়েছিল বলেই তাকে আটক করা হয়েছে। টাকা লেনদেনের অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমার বক্তব্য এখন যা, মৃত্যুর পরও তাই থাকবে। আপনারা তার আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।’