logo
Advertisement

১০ টাকার ঝালমুড়ি আর এক নিঃস্ব বাবার স্বপ্নের লড়াই

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ,বাগেরহাট
১০ টাকার ঝালমুড়ি আর এক নিঃস্ব বাবার স্বপ্নের লড়াই
২০ বছর ধরে চিরুলিয়া স্কুল প্রাঙ্গণে ঝালমুড়ি বিক্রি করেন আবুল কালাম। ছবি : এশিয়া পোস্ট

বিকেল গড়ালেই আবুল কালাম আজাদের চোখে অন্ধকার নামে। তাই প্রতিদিন সন্ধ্যার আগেই গুটিয়ে ফেলতে হয় ১০ টাকার ঝালমুড়ির পসরা। অথচ অভাব, নিজের অসুস্থতা, প্রতিবন্ধী স্ত্রী ও পাঁচ বছর ধরে নিখোঁজ বড় মেয়ের দুশ্চিন্তার মধ্যেও থেমে নেই তার লড়াই। একমাত্র স্বপ্ন—ছোট মেয়ে জোহরাকে পড়াশোনা করিয়ে তাঁর ভবিষ্যৎটা বদলে দেওয়া।

বাগেরহাট সদর উপজেলার কুলিয়া দাইড় গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ (৫০)। গ্রামের মানুষের দেওয়া জমিতে তোলা জীর্ণ ঘরে তার বসবাস। পরিবার বলতে শারীরিক প্রতিবন্ধী স্ত্রী এবং চিরুলিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী ছাত্রী জোহরা খাতুন।

২০ বছর ধরে চিরুলিয়া স্কুল প্রাঙ্গণে ঝালমুড়ি বিক্রি করেন কালাম। দৈনিক ৫০০ টাকার মুড়ি বিক্রি করে সামান্য লাভে তিনজনের সংসার চালাতে চরম হিমশিম খেতে হয়। নিজের হার্টের ভালভ নষ্ট, স্ত্রীর চোখেও ছানি ও শারীরিক জটিলতা; কিন্তু চিকিৎসার ন্যূনতম সামর্থ্য নেই। উপরন্তু পাঁচ বছর আগে নিখোঁজ হওয়া বড় মেয়ে ভারতে আছে শুনেও অর্থ আর চিকিৎসার অভাবে তার সন্ধানে যেতে পারছেন না তিনি।

কালাম বলেন, ‘আমার হার্টের ভালভ নষ্ট, চিকিৎসাও করাতে পারি না। রাতে চোখে দেখি না, অথচ আমার ওপরই সংসার। এত কষ্টের মধ্যেও ছোট মেয়েটার পড়ালেখা বন্ধ হতে দিইনি। যদি সরকার বা বিত্তবানেরা একটু চিকিৎসার ব্যবস্থা করতেন এবং নিখোঁজ মেয়েটাকে খুঁজে পেতে সাহায্য করতেন, তবে হয়তো বাকি জীবনটা একটু স্বস্তিতে কাটাতে পারতাম।’

বাবার প্রতিদিনের সংগ্রামকে অনুপ্রেরণা বানিয়ে পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছে ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী জোহরা খাতুন। বাবার মুড়ি বিক্রি নিয়ে কোনো সংকোচ নেই তার; বরং পরিবারের দুখ দূর করাই তার প্রধান লক্ষ্য।

সহপাঠী সুমাইয়া ও মুনিয়া জানায়, জোহরা তাদের ক্লাসের অন্যতম নিয়মিত ও মেধাভিত্তিক প্রথম সারির ছাত্রী। তবে পরিবারের চরম আর্থিক সংকটে তার উচ্চশিক্ষার পথ বাধাগ্রস্ত হতে বসেছে।

এ বিষয়ে চিরুলিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের ক্রীড়া শিক্ষক মুস্তাহিদুর রহমান মুক্ত এশিয়া পোস্টকে বলেন, কালাম ভাই দীর্ঘদিন ধরে আমাদের প্রতিষ্ঠানের সামনে মুড়ি বিক্রি করে জীবন চালাচ্ছেন। অসুস্থতা ও নিখোঁজ মেয়ের শোক নিয়েও জোহরাকে পড়াচ্ছেন। স্কুলের পক্ষ থেকে জোহরাকে বিনা খরচে পড়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সমাজের সচ্ছল ব্যক্তি বা প্রশাসন এগিয়ে এলে পরিবারটি নতুন আলো পাবে।

বিষয় :