লোডশেডিংয়ে সেচ ব্যাহত, দুশ্চিন্তায় কৃষক

বৈশাখের তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে ফেনী জেলায় বোরো ধানসহ রবি ফসলের সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে পল্লী বিদ্যুৎ-নির্ভর গ্রামাঞ্চলে সঠিক সময়ে জমিতে পানি দিতে না পারায় ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা।
সরেজমিনে ফেনী সদর উপজেলার বালিগাঁও ইউনিয়নের চর হুজুরী গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, পানির অভাবে ধানের জমিতে ফাটল ধরেছে। অনেক স্থানে ধানগাছ লালচে হয়ে যাচ্ছে। এই সময়ে ধানের শীষ বের হওয়ায় পর্যাপ্ত পানির প্রয়োজন হলেও বিদ্যুৎ না থাকায় পাম্প চালানো যাচ্ছে না। ফলে শীষের ফুল ঝরে পড়ছে, অনেক ক্ষেত্রে দানা না হয়ে চিটা হয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, দিনের বড় একটি অংশ বিদ্যুৎ থাকে না। সেচের পিক আওয়ারে লোডশেডিং ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছায়। বৃষ্টিপাত না থাকায় প্রাকৃতিক পানির উৎসও শুকিয়ে গেছে। এতে সেচ পুরোপুরি বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
বালিগাঁও ইউনিয়নের কৃষক আবদুর রশিদ বলেন, এখন জমিতে পানি খুব দরকার, কিন্তু বিদ্যুৎ এলেই আবার চলে যায়। একটানা সেচ দিতে না পারায় খেত শুকিয়ে যাচ্ছে। সরকার দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় ক্ষতির মুখে পড়ব।
চর হুজুরী গ্রামের আরেক কৃষক বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে সেচ দিতে পারছি না। ধান চিটা হয়ে যাচ্ছে। ফসল বাঁচাতে না পারলে সংসার চালানো কঠিন হবে।
ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার সুহেল আখতার বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের ৩৩টি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। কেন্দ্রীয় গ্রিড থেকে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ না পাওয়ায় রুটিন লোডশেডিং করতে হচ্ছে। জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
জেলা কৃষি কর্মকর্তা আতিকুল্লাহ এশিয়া পোস্টকে বলেন, ডিজেলের মাধ্যমে বিকল্প সেচ নিশ্চিত করতে ১৭টি পয়েন্টে সরবরাহ রাখা হয়েছে। তবে বৈদ্যুতিক পাম্পের ওপর নির্ভরশীল কৃষকেরা বেশি সমস্যায় আছেন।