দরজা ভেঙে ছাত্রের ঘুম ভাঙাল পুলিশ-ফায়ার সার্ভিস

সাহরি খেয়ে মেসে ঘুমিয়ে পড়েন মো. সোহান। রুমমেটরা বাইরে চলে যান। তারা সকালে এসে ডাকাডাকি করেন। তবে সাড়া দিচ্ছিলেন না সোহান। দরজা ধাক্কা দিয়েও তার সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না। টের পেয়ে স্থানীয়রা এসেও সোহানকে ডাকাডাকি করেন। এভাবে পেরিয়ে যায় ১১ ঘণ্টা। রুমমেটরা বাধ্য হয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। তারাও সাড়াশব্দ না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে ঘুমে বিভোর সোহানকে ডেকে তোলেন পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা।
সোমবার (২ মার্চ) বিকেল ৪টার দিকে ময়মনসিংহ নগরীর সানকিপাড়া এলাকায় সানকিপাড়া হেলথ অফিসার গলির ছাত্রাবাস থেকে সোহান নামের ওই শিক্ষার্থীকে ডেকে তোলা হয়। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিকেলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে বিষয়টি জানা যায়।
সোহান নগরীর একটি বেসরকারি কলেজের দ্বিতীয বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি জামালপুরের সরিষাবাড়ি উপজেলায়। ময়মনসিংহ নগরীর সানকিপাড়া হেলথ অফিসার গলির ছাত্রাবাসে থেকে লেখাপড়া করেন তিনি।
সোহান জানান, সাহরি খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। ঘুমানোর আগে দরজা লক করে দেন। বাহির থেকে ডাকাডাকির শব্দ তিনি শুনতে পাননি। তাকে ঘুম থেকে ওঠাতে এমন হুলস্থুল কাণ্ড হবে তা কল্পনাও করেননি।
ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জুলহাস উদ্দিন বলেন, সোহান ভোররাতে ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে সোহানের রুমমেটরা এসে অনেক ডাকাডাকি করেন। তার সাড়া মেলেনি। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে মানুষজন ভিড় জমাতে থাকে। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে আসে। ফায়ার সার্ভিস এসে দরজা ভেঙে ১১ ঘণ্টা পর সোহানকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুস সাকিব বলেন, ওই ছেলেটি সারারাত না ঘুমিয়ে ভোররাতে ঘুমায়। যে কারণে অনেক ডাকাডাকি করলেও সে টের পায়নি। পরে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করা হয়। ছেলেটি এখন সুস্থ আছে।