logo

কারখানার ছাদ থেকে পড়ে কর্মকর্তার মৃত্যু, ৩১ ঘণ্টা পর মরদেহ পেল পরিবার

কারখানার ছাদ থেকে পড়ে কর্মকর্তার মৃত্যু, ৩১ ঘণ্টা পর মরদেহ পেল পরিবার
মো. জামাল উদ্দিনের মরদেহ হস্তান্তর করলে বাড়িতে নিয়ে যায় পরিবার। ছবি: এশিয়া পোস্ট

সাভারের আশুলিয়ায় শারমিন গ্রুপের একটি কারখানার কর্মকর্তা মো. জামাল উদ্দিনের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার দীর্ঘ ৩১ ঘণ্টা পর মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে লাশ হস্তান্তরের বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফাহিম। তিনি এশিয়া পোস্টকে জানান, গতকাল বুধবার সকালের দিকে মরদেহ উদ্ধারের পর দুপুর ১২টার দিকে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর আজ পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।

মৃতের ভাই ইস্কান্দার আলী খান অভিযোগ করে বলেন, মৃত্যুর দীর্ঘ ৩১ ঘণ্টা পর ছোট ভাইয়ের লাশ বুঝে পেলাম। এর আগে ময়নাতদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দেখতেই পারিনি। অত্যন্ত কড়াকড়ি ও পুলিশি প্রহরার মধ্যে সন্ধ্যার দিকে ময়নাতদন্ত শেষ হলে তারা মরদেহ বুঝে পাই। তখন তার মুখটা দেখতে দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এর আগে আমি লিখিত অভিযোগ নিয়ে থানায় গেলেও পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে মামলা গ্রহণ করতে গড়িমসি করে। এ ছাড়া পরিবারের লোকজনকে না জানিয়েই লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়ে দেয়। পরবর্তীতে বিচার ও সঠিক কারণ উদঘাটনের দাবিতে আমরা দুই ভাই থানার ফটকের সামনে অনশনে বসি। পরে সংবাদকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশ তড়িঘড়ি করে মামলাটি গ্রহণ করে।

পরিবারের দাবি, এটি সাধারণ কোনো মৃত্যু নয়, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যা। কারখানার ভেতরের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা হয়েছে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

পরিবারের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়, এই আকস্মিক ঘটনার পর কারখানা কর্তৃপক্ষ কিংবা থানা পুলিশের পক্ষ থেকে শুরু থেকে কোনো ধরনের সদুত্তর বা সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। এমনকি গতকাল থানায় মামলা দায়ের করার পরও থানা থেকে তাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। সারাদিন মর্গে অপেক্ষারত অবস্থায় তাদের কাটাতে হয়েছে। পরে রাতে প্রক্রিয়া শেষ করে লাশ পরিবারের কাছে দেওয়া হয়।

পরিবার জানিয়েছে, হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি রাত ১০টার দিকে প্রথমে গাজীপুরে তাদের নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে আগে থেকে স্ত্রী নেহা ও একমাত্র ছোট ছেলে অপেক্ষায় ছিলেন মরদেহের। সেখানে জানাজা সম্পন্ন করার পর পরবর্তীতে তা টাঙ্গাইলে নিয়ে যাওয়া হবে। পরে বাবার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হবে।

বৃহস্পতিবার সকালে আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকায় শারমিন গ্রুপের কারখানার ৮তলার ছাদ থেকে পড়ে মারা যান সিনিয়র মার্চেন্ডিজার মো. জামাল উদ্দিন। নিহত জামাল উদ্দিন গাজীপুর সদরের বুরুলিয়া ডুয়েট এলাকার মৃত মো. সেকেন্দার আলীর ছেলে। তিনি আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকার শারমিন গ্রুপের ডিভিশন-৩-এর সিনিয়র মার্চেন্ডাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।