logo

মালয়েশিয়ায় হত্যার ১৮ দিন পর দেশে ফিরল নজরুলের মরদেহ

মালয়েশিয়ায় হত্যার ১৮ দিন পর দেশে ফিরল নজরুলের মরদেহ

মালয়েশিয়ায় হত্যাকাণ্ডের শিকার ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার নজরুল ইসলামের মরদেহ ১৮ দিন পর দেশে পৌঁছেছে। শনিবার (২ মে) ভোরে তার মরদেহ উপজেলার গোবরডাঙ্গা গ্রামে পৌঁছালে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

এর আগে শুক্রবার রাতে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মরদেহ পৌঁছায়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে রাত প্রায় ৪টার দিকে স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়। এ সময় বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নজরুলের মায়ের নামে ৩৫ হাজার টাকার একটি চেক প্রদান করা হয়।

শনিবার সকাল ১০টার দিকে নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। একই ঘটনায় নিহত তার সঙ্গী কোহিনুর বেগমের লাশ দুই দিন আগে দেশে আসার পর নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে দাফন করা হয়েছে।

নিহত নজরুল ইসলাম কালীগঞ্জ উপজেলার গোবরডাঙ্গা গ্রামের মোতালেব হোসেনের ছেলে। ২০১৮ সালে উন্নত জীবনের আশায় তিনি মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান।

স্বজনদের অভিযোগ, মালয়েশিয়ায় ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে নজরুল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যার পর মরদেহ পুড়িয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। গত ১৪ এপ্রিল দিবাগত রাতে ওই ঘটনা ঘটে।

পারিবার জানায়, মালয়েশিয়ায় একটি খামার গড়ে তুলেছিলেন নজরুল। সেখানে গবাদিপশু ও পোল্ট্রি খামারের পাশাপাশি বিভিন্ন পোষা প্রাণী পালন করতেন তিনি। তার ব্যবসায়িক সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে অংশীদারদের কেউ এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা পরিবারের।

নিহতের ভাই জহির উদ্দিন বলেন, ব্যবসায়িক অংশীদারদের সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল। তাকে আগেও কয়েকবার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। সব গুছিয়ে দেশে ফেরার পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু তার আগেই তাকে হত্যা করা হলো।

নিহতের ভাগনি সাদিয়া ইসলাম মীম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, মামা বলেছিলেন দ্রুত দেশে ফিরবেন। ফিরলেন ঠিকই, কিন্তু নিথর দেহে। এটা আমরা মেনে নিতে পারছি না।

এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন বলেন, ঘটনাটি বিদেশে হওয়ায় আমাদের কাছে সরাসরি কোনো তথ্য নেই। তবে নিহতের পরিবার সরকারের কাছে বিচার চেয়েছে বলে জেনেছি।