দুই সন্তানের বাবার নিথর দেহ পুকুরে

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে ভোরে নাশতা করে বের হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুকুর থেকে আরিফ হোসেন (৩৫) নামের এক যুবকের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি মানসিকভাবে কিছুটা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হলেও ভ্রাম্যমাণ দোকান চালিয়ে সংসারের হাল ধরেছিলেন।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে লক্ষ্মীপুর-রামগতি আঞ্চলিক সড়কের তোরাবগঞ্জ বাজার-সংলগ্ন সেলিম চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনের পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, নিহত আরিফ কমলনগর উপজেলার তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের লুতু মুন্সী বাড়ির বাসিন্দা মাওলানা আক্তার হোসেনের ছেলে। তিনি স্থানীয় তোরাবগঞ্জ উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে চকলেট ও চানাচুরের ভ্রাম্যমাণ দোকান চালাতেন। স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে ছিল তার সংসার।
মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তোরাবগঞ্জ এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশ। দুই সন্তানের বাবা আরিফের এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আরিফ হোসেন সহজ-সরল প্রকৃতির ছিলেন। প্রতিদিনের মতো ঘটনার দিন ভোরেও তিনি তোরাবগঞ্জ বাজারে এসে একটি হোটেলে নাশতা করেন। পরে সকাল ৯টার দিকে স্থানীয়রা পুকুরপাড়ে তার ব্যবহৃত লুঙ্গি, জুতা ও গেঞ্জি পড়ে থাকতে দেখে সন্দেহ করেন। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে পুকুরে তার মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতের মামা সুলতান আহাম্মদ টিপু জানান, আরিফ দীর্ঘদিন ধরে মৃগী রোগে আক্রান্ত ছিলেন এবং নিয়মিত ওষুধ সেবন করতেন। বুধবার রাতেও তিনি ওষুধ খেয়েছিলেন। তবে কী কারণে তিনি পুকুরে গিয়েছিলেন বা কীভাবে এই ঘটনা ঘটেছে, তা পরিবারের কারও জানা নেই।
কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদুল আলম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখছে।
