logo

নরসিংদীর সেই কিশোরীকে ‘হত্যা’ করে নাটক সাজায় সৎবাবা

নরসিংদীর সেই কিশোরীকে ‘হত্যা’ করে নাটক সাজায় সৎবাবা

নরসিংদীতে আলোচিত ১৫ বছর বয়সি কিশোরীকে হত্যার ঘটনায় তার সৎবাবা আশরাফ আলীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এরই মধ্যে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরের দিকে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল-ফারুক। 

এর আগে, বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকেলে নরসিংদীর মাধবদী থেকে সন্দেহের তালিকায় থাকা সৎবাবা আশরাফ আলীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিজের সৎ মেয়েকে গলায় ওড়না প্যাঁচিয়ে একাই হত্যা করে এবং ধর্ষক নূর মোহাম্মদ নূরাসহ অন্যদের ফাঁসানোর চেষ্টায় অপহরণের মিথ্যা নাটকের কথা জানায়। মামলায় অভিযুক্ত অন্যরা হত্যার ঘটনার সঙ্গে জড়িত না বলে আশরাফ আলী স্বীকারোক্তি প্রদান করেন।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল-ফারুক জানায়, গত ১০ ফেব্রুয়ারি নূর মোহাম্মদ নূরাসহ একাধিক আসামি ওই কিশোরীকে গণধর্ষণ করে। এরই প্রেক্ষিতে স্থানীয় সাবেক মেম্বারের বিচার কার্যসহ নানা কারণেই সৎ মেয়ের ওপর ক্ষিপ্ত হওয়ার কথা জানায় আশরাফ আলী। পরবর্তীতে মেয়েকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিতে পারলে অপমান থেকে মুক্তি পাওয়ার আশায় মেয়েটিকে পরিকল্পিতভাবে আত্মীয় সুমনের বাড়িতে রেখে আসার কথা বলে একটি নির্জন সরিষা ক্ষেতের ধারে পৌঁছে একাই গলায় চেপে ধরে ওড়না প্যাঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে মেয়েটিকে। এ সময় নিজেকে বাঁচাতে পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নূরাসহ অন্যদের উপর দায় চাপানোর মিথ্যা অপহরণ নাটক সাজায় আশরাফ আলী।

পুলিশ সুপার আরও জানান, ওই কিশোরীর হত্যাকারী সৎবাবা আশরাফ আলী একাই। অন্যরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত না বলে আশরাফ আলী আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। এ ঘটনায় যাদের দায় যেটুকু, সে অনুযায়ী তাদের ওপর আইন প্রয়োগ হবে। সৎবাবা স্বীকার করে আদালত এবং পুলিশের কাছে জবানবন্দি দিয়েছেন তার মেয়ের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে সে হত্যাকাণ্ডটি ঘটায়। হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে মেয়েটির প্রেমিক অভিযুক্ত প্রধান আসামি নুরা ও তার সহযোগীদের ওপর দায় চাপিয়ে অপহরণ নাটক সাজান।

সবশেষে তিনি জানান, আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৯ আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে। তাদের মধ্যে হত্যার অভিযোগে একজন, ধর্ষণের অভিযোগে চারজন এবং অবৈধ সালিশে জড়িত থাকার দায়ে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে সৎবাবা আশরাফ আলী, নূর মোহাম্মদ নূরা ও হযরত আলী আদালতে জবানবন্দি দিয়ে দায় স্বীকার করেছেন।

এর আগে, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালে মাধবদীর দড়িকান্দি এলাকার একটি সরিষা ক্ষেত থেকে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে কিশোরীর মা বাদী হয়ে ৯ জনের নামে মামলা করেন। আলোচিত এই ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামিদের ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের কথা স্বীকার করলেও হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে বাবার ওপর নজরদারি করে গোয়েন্দা পুলিশ। তাকে গ্রেপ্তারের পর মেলে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য।