ভালো চাকরির আশ্বাসে ভারতে, ১১ মাস ধরে নিখোঁজ মাসুম

জীবন-জীবিকার তাগিদে ভালো বেতনে চাকরির আশ্বাসে দালালের মাধ্যমে ভারতে গিয়ে ১১ মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছেন ফেনীর মো. মাসুম। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির কোনো সন্ধান না পেয়ে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও দিশেহারা অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন তার স্বজনেরা। ছেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার প্রধান তারেক রহমান ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ সহায়তা কামনা করেছেন তার মা।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মাসুমের পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার লাহারকান্দি ইউনিয়নের চাঁদখালি গ্রামের ব্যাপারী বাড়িতে। তিনি রুহুল আমিনের ছেলে। তবে ছোটবেলা থেকেই তিনি ফেনী সদর উপজেলার বালিগাঁও ইউনিয়নের চর হুজুরী গ্রামে নানা বাড়িতে বড় হয়েছেন। একজন মেকানিক হিসেবে এলাকায় তার সুনাম ছিল। সেই দক্ষতার সুযোগ নিয়ে সোহেল নামের এক স্থানীয় দালাল তাকে ভালো বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে গত বছর নভেম্বর মাসে ভারতে নিয়ে যায়।
ভারতে যাওয়ার পর প্রথম দুই মাসে মাসুম বাড়িতে ৩০ হাজার টাকা পাঠান। কিন্তু এরপর থেকেই তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ হয়ে যায় এবং স্বজনদের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। লোকমুখে পরিবার জানতে পেরেছে, চেন্নাই থেকে কলকাতা আসার পথে হাকিমপুর থানা পুলিশ তাকে আটক করে। বর্তমানে তিনি ভারতের কারাগারে বন্দি আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ নিয়ে মাসুমের মা মাসুদা বেগম ফেনী মডেল থানায় জিডি দায়ের করলেও ছেলের কোনো তথ্য পাননি।
মাসুমের মামা সাইফুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, মাসুম আমাদের বাড়িতে থেকেই বড় হয়েছে। ভালো মেকানিকের কাজ জানা সত্বেও দালাল সোহেলের লোভে পড়ে সে ভারতে যায়। প্রথম দিকে কথা হলেও গত ১১ মাস ধরে তার কোনো খোঁজ পাচ্ছি না। লোকমুখে শুনেছি হাকিমপুর থানা পুলিশ তাকে আটক করেছে। এখন সে কী অবস্থায় আছে, তা নিয়ে আমরা দুশ্চিন্তায় আছি। ভাগিনার শোকে আমার বোন পাগলপ্রায়। পরিবারটিকে এই মানসিক যন্ত্রণা থেকে বাঁচাতে এবং ভারতে বন্দি মাসুমকে দ্রুত উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করছি।
মাসুমের মা মাসুদা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে এশিয়া পোস্টকে বলেন, আমার ছেলে দালালের ফাঁদে পড়ে ভারত গিয়েছিল। এখন গত ১১ মাস আমরা তার কোনো খোঁজ খবর পাচ্ছি না। প্রতিদিন দরজায় পথ চেয়ে বসে থাকি, কখন আমার ছেলে ফিরে আসবে। তার চিন্তায় তার বোন বিয়ে বসতে রাজি হচ্ছে না। সরকারের কাছে আমার মিনতি, আপনারা আমার ছেলেকে আমার বুকে ফিরিয়ে দিন।
ফেনী বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান এশিয়া পোস্টকে বলেন, আমরা এ বিষয়ে ভারতের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফকে জানিয়েছিলাম কিন্তু তারা এ বিষয়ে এখনো কোনো খবর দিতে পারেনি।
