হাওরে উদ্ধার দগ্ধ মরদেহটি সুনামগঞ্জের নিখোঁজ লন্ডন প্রবাসীর

সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার হাওর থেকে উদ্ধার হওয়া আগুনে পোড়ানো ও গলায় দড়ি বাঁধা অজ্ঞাত মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
নিহত ওই ব্যক্তির নাম বুরহান উদ্দিন শফি (৫৯)। তিনি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌরশহরের হবিবপুর আশিঘর গ্রামের সমছু মিয়ার ছেলে। শফি যুক্তরাজ্যের লন্ডন প্রবাসী ছিলেন।
বুরহান উদ্দিন শফি ২৮ জানুয়ারি দেশে এসে সিলেট শহরের আম্বরখানা ৩৪/৪১ নম্বর বাসায় উঠেন। সেখান থেকে গত ৩০ জানুয়ারি কুলাউড়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। সিসিটিভির ফুটেজে দেখা গেছে, মোটরসাইকেলযোগে এক যুবককে নিয়ে তিনি যাতায়াত করতেন। ওই রাতে তার মুঠোফোন বন্ধ এবং কোনো খোঁজ পাওয়া না যাওয়ায় পরদিন তার স্বজনরা সিলেটের এয়ারপোর্ট থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন।
এর আগে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জকিগঞ্জ উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের সাতঘরি ও বিলপার এলাকার মধ্যবর্তী কোনারবন্দ হাওর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি হাওরে মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে জকিগঞ্জ থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
প্রত্যক্ষদর্শী জানান, মরদেহটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আগুন দিয়ে পোড়ানোর স্পষ্ট চিহ্ন ছিল এবং গলায় দড়ি প্যাঁচানো অবস্থায় পড়েছিল। মরদেহের পাশে একটি লবণের প্যাকেটও পাওয়া যায়, যা ঘটনাটিকে আরও রহস্যজনক করে তুলেছে।
স্থানীয়দের ধারণা, হত্যার পর পরিচয় গোপন ও আলামত নষ্ট করার উদ্দেশ্যে মরদেহে আগুন দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক গণমাধ্যমকে জানান, পিবিআই ও সিআইডির একটি টিম ঘটনাস্থলে এসে নিহতের আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করে পরিচয় শনাক্ত করে। পরে নিহতের স্বজনরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করেন।
তিনি আরও জানান, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় মামলা করার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শ চলছে।