নৌকা আর ঘুরপথের দুর্ভোগ, ধরলায় সেতুর অপেক্ষায় ৮ লাখ মানুষ

কুড়িগ্রামের ধরলা নদীর ওপর একটি সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তিন উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ। জেলা শহরে আসতে কখনো নদীপথ, কখনো আবার প্রায় ৪০ কিলোমিটার ঘুরে আসতে হচ্ছে তাদের। দীর্ঘদিনের সেই ভোগান্তির অবসানে এবার বাংটুর ঘাটে সেতু নির্মাণের আশায় বুক বাঁধছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা যায়, সদর উপজেলার শিবরাম বাংটুর ঘাট দিয়ে প্রতিদিন ধরলা নদী পার হয়ে ফুলবাড়ী, নাগেশ্বরী ও ভূরুঙ্গামারী উপজেলার মানুষ জেলা শহরে যাতায়াত করেন। কিন্তু নদীর ওপর একটি সেতু না থাকায় প্রতিদিনই সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কয়েক লাখ মানুষকে।
বর্তমানে নদী পারাপারের একমাত্র ভরসা নৌকা। ফলে জরুরি রোগী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় নদীর পাড়ে। বর্ষা মৌসুমে এই দুর্ভোগ বেড়ে যায় আরও কয়েকগুণ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি সেতুর অভাবে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও ব্যবসা-বাণিজ্যে মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। অনেক সময় গুরুতর রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব না হওয়ায় দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটছে। এছাড়া কৃষিপণ্য ও ব্যবসায়িক মালামাল পরিবহনে বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের।
তারা বলছেন, দীর্ঘদিনের বিচ্ছিন্নতা আর দুর্ভোগের অবসানে দ্রুত বাংটুর ঘাট সেতু বাস্তবায়ন হবে। তাদের আশা, এই সেতু নির্মিত হলে বদলে যাবে পুরো অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা, অর্থনীতি ও মানুষের জীবনমান।
স্থানীয় বাসিন্দা বিপুল মিয়া বেলাল বলেন, একটা ব্রিজ হলে আমাদের কষ্ট অনেক কমে যেত। রোগী নিয়ে নদী পার হতে অনেক ভয় লাগে। বর্ষাকালে তো অবস্থা আরও খারাপ হয়।
শিক্ষার্থী আরিফ হাসান বলেন, প্রতিদিন কলেজে যেতে নদী পার হতে হয়। অনেক সময় নৌকার জন্য দেরি হয়। একটা সেতু হলে আমাদের যাতায়াত অনেক সহজ হয়ে যাবে।
আমেনা বেগম নামের এক নারী বলেন, আজ দীর্ঘদিন ধরে নৌকায় যাতায়াত করছি। এমনো সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে নৌকা ধরতে হয়, যা আমাদের নারীর জন্য অনেক কষ্টের। ব্রিজটি হলে সেই কষ্ট আর থাকবে না।
এদিকে দীর্ঘদিনের দাবির পর অবশেষে ধরলা নদীর ওপর প্রায় ১ হাজার ৭৫০ মিটার দীর্ঘ একটি সেতু নির্মাণের প্রস্তাবনা দিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। সেতুটি নির্মিত হলে তিন উপজেলার প্রায় আট লাখ মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে সোনাহাট স্থলবন্দরকেন্দ্রিক পণ্য পরিবহনেও গতি বাড়বে।
এ বিষয়ে সেতু বাস্তবায়ন ও ভবন ব্যবস্থাপনা ইউনিটের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. এবাদত আলী বলেন, বাংটুর ঘাট এলাকায় সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য খুব দ্রুত স্টাডি টিম কাজ শুরু করবে। তাদের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
