logo

‘ভুল বুঝতে পেরেছি’, ৯৫ বছরের বাবাকে ঘরে ফিরিয়ে নিলেন বড় ছেলে

‘ভুল বুঝতে পেরেছি’, ৯৫ বছরের বাবাকে ঘরে ফিরিয়ে নিলেন বড় ছেলে
ইউএনওর হস্তক্ষেপে বড় ছেলের ঘরে ফিরলেন ৯৫ বছরের শামসুল হক। ছবি : এশিয়া পোস্ট

জমিজমা সন্তানদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার পর বাড়ি থেকে বিতাড়িত হওয়ার অভিযোগ উঠেছিল ৯৫ বছর বয়সি হাজী শামসুল হক মোল্লার। শেষ পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বাবাকে নিজ বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়েছেন তার বড় ছেলে। একই সঙ্গে বাবার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত নিজের কাছে রেখে দেখাশোনার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে।

এর আগে, মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগের পর বাড়ির পাশের একটি গাছের নিচে আশ্রয় নিতে হয়েছিল বৃদ্ধ শামসুল হককে। বিষয়টি জানার পর উদ্যোগ নেয় উপজেলা প্রশাসন।

শামসুল হক মোল্লা উপজেলার উত্তর হিরণ গ্রামের ওমেদ আলী মোল্লার ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তাঁর দুই ছেলে ও চার মেয়ে। বড় ছেলে আজিজুল হক পেশায় ফেরিওয়ালা। ছোট ছেলে রেয়াজুল মোল্লা বাসের চালকের সহকারী। চার মেয়ের মধ্যে মায়া, সাবিনা ও সালমা বেগম বিবাহিত। ছোট মেয়ে কাজুলী বেগম শারীরিক প্রতিবন্ধী।

জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফ-উল-আরেফীন শামসুল হক মোল্লার দুই ছেলে ও চার মেয়েকে তার কার্যালয়ে ডেকে পাঠান। সেখানে সন্তানদের সঙ্গে কথা বলে বাবার ভরণ-পোষণ ও দেখাশোনার দায়িত্ব নেওয়ার নির্দেশনা দেন তিনি। পরে বড় ছেলে আজিজুল হক মোল্লা বাবার দায়িত্ব নিতে সম্মত হন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েক বছর আগে জমিজমা বিক্রি করে হজ পালন করেন শামসুল হক। এ সময় অবশিষ্ট জমিজমাও সন্তানদের মধ্যে ভাগ করে দেন। অভিযোগ রয়েছে, সম্পত্তি ভাগ করে দেওয়ার পর থেকেই সন্তানদের অনেকেই তার খোঁজখবর ও দেখাশোনায় তেমন আগ্রহ দেখাননি।

গত কয়েক দিন বড় মেয়ে মায়া বেগমের বাড়িতে ছিলেন শামসুল হক। মঙ্গলবার সকালে মায়া তাকে দুই ভাইয়ের বাড়িতে নিয়ে গেলে ভাই ও তাদের স্ত্রীরা মিলে বাড়ি থেকে বের করে দেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে বাড়ির পাশের একটি গাছের নিচে আশ্রয় নিতে হয় তাকে। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

বড় মেয়ে মায়া বেগম জানান, তার স্বামী অসুস্থ। এ ছাড়া বাড়িতে শারীরিক প্রতিবন্ধী ছোট বোন কাজুলী থাকেন। এ অবস্থায় বাবাকে নিজের কাছে রাখা তার পক্ষে সম্ভব নয়।

মেজ মেয়ে সাবিনা বেগম বলেন, বাবা জমি বিক্রি করে চার বোনকে চার লাখ টাকা করে দিয়েছেন। অন্যদিকে দুই ভাইকে নগদ টাকাসহ আট কাঠা করে জমি দিয়েছেন। এখন বোনেরা কেন বাবার দেখাশোনা করবেন, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।

বাবাকে ঘরে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বড় ছেলে আজিজুল হক মোল্লা বলেন, ইউএনও স্যার বলার পর আমি আমার বাবাকে ঘরে নিয়েছি। আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমার বাবা আমার কাছেই থাকবেন।

কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফ-উল-আরেফীন বলেন, বৃদ্ধ শামসুল হক মোল্লার বিষয়টি জানার পর আমরা তার সন্তানদের সঙ্গে যোগাযোগ করি এবং সবাইকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ডেকে পাঠাই। সেখানে সন্তানদের সঙ্গে কথা বলে তাদের বাবার ভরণ-পোষণ ও দেখাশোনার দায়িত্ব নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পরবর্তী সময়ে তার বড় ছেলে বাবার দায়িত্ব নিতে সম্মত হয়েছেন এবং তাকে নিজ বাড়িতে নিয়ে গেছেন। একজন বৃদ্ধ বাবার শেষ বয়সে যেন অবহেলা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে না হয়, সে বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। ভবিষ্যতেও বিষয়টির খোঁজখবর রাখা হবে।

রবিউল ইসলাম

সম্পাদনা

রবিউল ইসলাম

সাব এডিটর | এশিয়া পোস্ট